1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৬ অপরাহ্ন

এলপিজি সিলিন্ডারের চড়া দাম

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজার দীর্ঘ সময় ধরে অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) পক্ষ থেকে প্রতি মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না। কমিশনের বেঁধে দেওয়া সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা হলেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্রাহকদের সিলিন্ডারপ্রতি ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে। এতে প্রতি সিলিন্ডারে ভোক্তাদের পকেট থেকে বাড়তি গুনতে হচ্ছে ২৬০ থেকে ৫০০ টাকার বেশি। একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অবৈধ মজুদ না করতে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।

জ্বালানি বিভাগের নির্দেশে দেশের জেলা প্রশাসকরা এলপিজি বাজারের হালনাগাদ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন, যা গত ৮ অক্টোবর জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানিকগঞ্জে ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বগুড়ায় দাম ১ হাজার ৮২০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা, কুমিল্লায় ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা এবং খুলনায় ১ হাজার ৯০০ থেকে ১ হাজার ৯৫০ টাকার মধ্যে রয়েছে। জ্বালানি বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, অনেক জেলাতেই নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির চিত্র উঠে এসেছে। অক্টোবর মাসে সেখানে ১১টি অভিযান পরিচালনার তথ্যও প্রতিবেদনে রয়েছে।

সাতক্ষীরার বাজারে সিলিন্ডারপ্রতি ১ হাজার ৮৪০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা, ফেনীতে ১ হাজার ৮৪০ থেকে ১ হাজার ৯৫০ টাকা এবং মাদারীপুরে ১ হাজার ৮৪০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রাঙামাটিতে ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৮৪০ টাকা, রাজশাহীতে ১ হাজার ৮৪০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা, বরিশালে ১ হাজার ৮২০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা, নরসিংদীতে ১ হাজার ৮৪০ টাকা এবং ঝিনাইদহে ১ হাজার ৮৫০ টাকা দরে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। একই জেলায় বিক্রেতাভেদে দামের এই বড় পার্থক্য প্রমাণ করে যে, বিইআরসির নির্ধারিত মূল্য কোথাও সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না। এসব তথ্য থেকে দেখা যায়, একই পণ্যের দাম একেক জেলায় যেমন আলাদা, তেমনি একই জেলার মধ্যেও বিক্রেতাভেদে দামের বড় পার্থক্য রয়েছে।

বাজারে এই অরাজকতা রুখতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। খুলনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিএসটিআই ও পুলিশের যৌথ অভিযানে চারটি প্রতিষ্ঠানকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মাদারীপুরে তিনটি দোকানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ৫ হাজার টাকা, রংপুরে এক ব্যবসায়ীকে ৩ হাজার টাকা এবং সাতক্ষীরায় সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে ধারাবাহিক অভিযানে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শকের দপ্তর অতিরিক্ত দামে বিক্রির দায়ে নয়টি প্রতিষ্ঠানকে ৬১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। তবে জরিমানা করেও বাজারে অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। রংপুরে এক ব্যবসায়ীকে একই আইনের ৪০ ধারায় জরিমানা করা হয় ৩ হাজার টাকা।

বিইআরসি চেয়ারম্যান মো. জালাল আহমদ জানিয়েছেন, আমদানিকারকদের নথিপত্র যাচাই করে তারা যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করেন। তবে মাঠপর্যায়ে তদারকির জন্য পর্যাপ্ত জনবল কমিশনের নেই। জেলা প্রশাসনকেই মূলত জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হয়। কমিশন ১৩ অক্টোবর থেকে নিজস্ব তদারকি শুরু করবে বলে জানান তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এলপিজির শিল্প ব্যবহার বাড়ায় সরবরাহ চেইনে চাপের সম্ভাবনা রয়েছে। এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর ভূমিকা, সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মূল্য নির্ধারণ করেই কি দায়িত্ব শেষ।

জ্বালানি বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এলপিজি বাজার মূলত কয়েকটি বেসরকারি কোম্পানির কব্জায়। অল্প কয়েকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করে এবং তাদের সিদ্ধান্তের প্রভাব বাজারে দৃশ্যমান। ডিলারশিপ ব্যবস্থাও বেসরকারি কোম্পানির অধীনে হওয়ায় মাঠপর্যায়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণ সীমিত। সরকার এখন এই খাতে নিজের অংশীদারত্ব বাড়ানো ও ডিলারদের ওপর নজরদারি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

রান্নার কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল পরিবার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এখন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। প্রশাসনিক অভিযান ও জরিমানা সত্ত্বেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া এবং ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হওয়ায় ভোক্তারা স্বস্তি পাচ্ছেন না। শুধু দায়সারা অভিযান নয়, বরং সরবরাহ ব্যবস্থা ও মজুদের তথ্য যাচাই করে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun