গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে সরাসরি গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি। গত মঙ্গলবার দোহায় আয়োজিত কাতারের শুরা কাউন্সিলের ৫৫তম বার্ষিক অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, গাজায় যা ঘটছে তা নিঃসন্দেহে গণহত্যা এবং এর সাথে জড়িত অপরাধীদের কোনোভাবেই জবাবদিহির ঊর্ধ্বে রাখা যাবে না। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজ্জায় চলমান দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলি গণহত্যার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দোহায় কাতারের শুরা কাউন্সিলের ৫৫তম বার্ষিক অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “গাজ্জা উপত্যকায় যা ঘটেছে, তা নিঃসন্দেহে গণহত্যা। গাজ্জায় ইসরাইলের যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত বছরের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। হতাহতদের একটি বড় অংশই নারী ও শিশু। এছাড়া গাজ উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে অঞ্চলটির প্রায় ২৪ লাখ বাসিন্দার মধ্যে প্রায় ২১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে তীব্র মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই নৃশংসতার বিচারের দাবি জোরালো হচ্ছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)-এ দক্ষিণ আফ্রিকার করা গণহত্যার মামলায়ও বেশ কয়েকটি দেশ যুক্ত হয়েছে। এই মামলায় কয়েকটি দেশও যোগ দিয়েছে।
যুদ্ধবিরতি ও শান্তির বিষয়ে শেখ তামিম জানান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় কাতার তার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাবে। উল্লেখ্য, কাতার, মিসর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। তবে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় যুদ্ধবিরতি পরবর্তী সময়েও অন্তত ১ হাজার ৪৯৩ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৫ হাজার ২৯৯ জন আহত হয়েছেন। একইসঙ্গে ইসরায়েল গাজায় প্রয়োজনীয় খাদ্য, ওষুধ ও জীবন রক্ষাকারী সামগ্রী প্রবেশেও বাধা প্রদান করছে। কাতারের আমীর আরও বলেন, “আমরা আমাদের ভাই এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখব, যাতে আমাদের অঞ্চল স্থিতিশীল ও নিরাপদ থাকে।”।