1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন

আফগানদের কাছে বড় হারে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে বিদায় বাংলাদেশের

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬

বুধবার এক ম্যাচে শারজায় ১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তান সহজেই ৭ উইকেটের জয় তুলে নেয়। আলিস আল ইসলামের বলে হাসমতউল্লাহ শহিদি লেট কাটে দুই রান নিলে ৮৭ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে আফগানরা। এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে জায়গা করে নিতে হলে বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাট করে বড় স্কোর গড়তে হতো এবং পরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিততে হতো। কিন্তু বাঁচা-মরার লড়াইয়ে বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে ব্যর্থ হয়ে বাংলাদেশ ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায়। আলিস আল ইসলামের বলে লেট কাটে ২ রান নিলেন হাসমতউল্লাহ শহিদি। কিন্তু এই জয়ের পর তেমন উচ্ছ্বাসই দেখা গেল না দুই আফগান ব্যাটার—শহিদি ও রহমত শাহর মধ্যে। তাদের মুখের অভিব্যক্তি যেন এটাই বলছিল—বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় এ আর এমন কি। সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে খাদের কিনারে চলে গিয়েছিল বাংলাদেশ। আর সেটার জন্য দরকার ছিল বড় একটা স্কোর। ব্যাটিংই যে বাংলাদেশ দলের দুশ্চিন্তার আরেক নাম, সেটা প্রমাণ করে আফগানদের বিপক্ষে মুখ থুবড়ে পড়ল দলের ব্যাটিং লাইনআপ। বুধবার (২১ অক্টোবর) শারজায় ১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় এসে হেসে খেলেই ৭ উইকেটে জিতল আফগানিস্তান। ১৬০ রানে অলআউট হওয়ার পর ফাইনাল উঠতে হলে আফগানিস্তানকে ১১৯ রানে থামিয়ে দিয়ে জিততে হতো বাংলাদেশকে। তিনজনই আউট হয়েছেন অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করে খেলতে গিয়ে। অনুজদের দুর্দশা দেখে জাতীয় দলের সাবেক ব্যাটার ইমরুল কায়েস ফেসবুক পোস্টে বিসিবিকেই ধুয়ে দিলেন। দল নির্বাচনে আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত কিংবা স্বজনপ্রীতি থেকে দূরে থাকার আবেদন জানিয়ে লিখলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডের উচিত সম্পূর্ণ মেধা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে সেরা একাদশ নির্বাচন করা।

প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় রান দাঁড়ানোর আগেই তানজিদ তামিম ১ ও সৌম্য সরকার কোনো রান না করেই আউট হন। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ১৫ রান করে বিদায় নেন। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ও আউট হন। সপ্তম ওভারের মধ্যেই মাত্র ২৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। দলের এমন বিপর্যয় সামাল দিতে পঞ্চম উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন ওপেনার সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন। তাদের দু’জনের ১৪৭ বল স্থায়ী জুটিতে আসে ৯৩ রান। সাইফ হাসান ৮২ বল খেলে দুটি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে ৪১ রান করে আউট হলে এই জুটি ভেঙে যায়। অন্যদিকে দলের ইনিংস সর্বোচ্চ ৭০ রান করেন পারভেজ হোসেন ইমন। তার ৯৬ বলের এই ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত পুরো দল ১৬০ রানে অলআউট হয় এবং আফগান স্পিনার ৩১ রান খরচ করে চার উইকেট লাভ করেন। এই শোচনীয় হারে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল বাংলাদেশ। বলের মেরিট না বুঝে ভুল শট নির্বাচনের সেই চিরাচরিত সমস্যা ব্যাটারদের।

  1. ইব্রাহিম জাদরান ৯৫ বলে ৩৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন।
  2. রান তাড়ায় নেমে ২৬ রানে রহমানউল্লাহ গুরবাজ (৬) এবং ৩৯ রানে সেদিকউল্লাহ আতাল (৪) আউট হন। এরপর ইব্রাহিম জাদরানও ৯৫ বলে ৩৪ রান করে আউট হলেও দলের জয় আটকানো যায়নি। চার নম্বরে নেমে অধিনায়ক রহমত শাহ ৫টি চারে ৯০ বলে ৬৭ রান করে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। তার সঙ্গে হাসমতউল্লাহ শহিদি ৩৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের পতন হওয়া তিন উইকেটের মধ্যে দুটি নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ এবং একটি উইকেট শিকার করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান।
  3. পাওয়ার প্লের সময় তানজিদ, সৌম্য ও শান্তর পর অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ও দ্রুত বিদায় নেন। সপ্তম ওভারে ২৮ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর সাইফ ও ইমনের জুটি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সাইফের ৪১ রানের ইনিংসের পর শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ১৬০ রানে অলআউট হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • আউট হলেও তাদের কক্ষচ্যূত করা যায়নি। চার নম্বরে উইকেটে এসে রহমত শাহ দলকে জিতিয়ে তবেই মাঠ ছাড়েন। ৫ চারে ৯০ বলে ৬৭ রান করে অপরাজিত থাকেন আফগান অধিনায়ক। হাসমতউল্লাহ শহিদি অপরাজিত থাকেন ৩৬ রানে। আফগানদের পতন হওয়া তিন উইকেটের।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun