সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় নারী বাউলশিল্পীদের নিয়ে আয়োজিত একটি ঘরোয়া গানের অনুষ্ঠান স্থানীয়দের আপত্তির মুখে বাতিল করতে হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি নিয়ে এলাকায় সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনা এড়াতেই আয়োজক এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ঝুঁকিতে সবজি রপ্তানি। সাজেক সড়কে অবরোধ অব্যাহত, রিসোর্টের ৬০ শতাংশ বুকিং বাতিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শওকত আলী তার বাড়িতে স্থানীয় বাউলশিল্পী তানিশা ও নীলার অংশগ্রহণে গানের আসরের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ইউরোপের ৩ দেশ থেকে ৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত। পাকিস্তানি আলী রাজার জোড়া গোলে আবাহনীকে হারাল ব্রাদার্স।
তবে এই আয়োজনের খবর ছড়িয়ে পড়লে একই গ্রামের বাসিন্দা আতাহার আলী ও কামরুল হাসান দিরাই থানায় লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে অভিযোগ করা হয়, গ্রামটি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ইসলামী ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। তাই নারী শিল্পীদের অংশগ্রহণে গানের আয়োজন করলে এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে। নারী শিল্পীরা গান গেলে ‘গানের নামে অশ্লীলতার’ দাবি তুলে আয়োজন বন্ধে পুলিশের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। নারী শিল্পীদের নিয়ে গানের অনুষ্ঠানের বিষয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে অসন্তোষ ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। অনেকেই মনে করেন, গানের নামে অশ্লীলতা হতে পারে। ট্রফির চেয়েও যে স্মৃতি মেসির কাছে দামি।
অভিযোগকারী কামরুল হাসান দাবি করেন, গ্রামে এখন আর গানবাজনার চল নেই। নারী শিল্পীদের গানের অনুষ্ঠানে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ ও অশ্লীলতার আশঙ্কায় তারা এটি বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছেন। এদিকে, আয়োজক শওকত আলী জানান, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং থানা থেকে ফোন পাওয়ার পর তিনি অনুষ্ঠানটি বাতিল করেছেন। ওসি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আপত্তি ওঠার পর আয়োজক নিজেই গানবাজনা না করার কথা জানিয়েছেন। যোগাযোগ করা হলে আয়োজক শওকত আলী বলেন, ‘মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে বাড়িতে ছোট পরিসরে গানের আয়োজন করেছিলাম।
এর আগে, দিরাইয়ে ‘ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটি’র আপত্তির মুখে উপজেলা সদর স্টেডিয়ামে মেয়েদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বাতিল করতে হয়েছিল।
গত ৫ অক্টোবর স্থানীয় স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাব ও সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাবের মধ্যে ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল।
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম এই ঘটনার সমালোচনা করে বলেন, নারী ফুটবল বন্ধের পর এবার বাউলগান বন্ধ হওয়াটি দুঃখজনক। পরপর দুটি আয়োজন স্থানীয় আপত্তিতে বন্ধ বা স্থগিত হওয়া দুঃখজনক।’। ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাস করি না’, দল নির্বাচনে হস্তক্ষেপের প্রশ্নে বাশার।