1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
হেবরনে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে পিএসজির তারকাদের উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা পিকআপ কেনার ১৫ দিনেই স্বপ্নভঙ্গ, দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণের ভোটের দুদিন আগে আদালতে আটকে গেল বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন মুন্সীগঞ্জে এক্সপ্রেসওয়েতে বাস দুর্ঘটনা: নিহত ৩ শাহজালালে লাগেজ চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ১, মালামাল উদ্ধার ১৯৫ সদস্যবিশিষ্ট এনসিপির পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা জাপান সফরকালে কেন ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হলো রাষ্ট্রদূতকে? ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বেড়েছে সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায়, লক্ষ্যবস্তু নারী নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনেও মান্তাদের ভাগ্যে জোটেনি সরকারি সহায়তা

ভোটের দুদিন আগে আদালতে আটকে গেল বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন ঘিরে সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। নির্ধারিত পাঁচটি ভোটকেন্দ্র, ৩৫ হাজারের বেশি ভোটার এবং দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের টানা প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে নির্বাচনী আমেজ তুঙ্গে উঠেছিল। তবে ভোটগ্রহণের মাত্র দুই দিন আগে আদালতের এক আদেশে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া থমকে গেছে। শুক্রবার ২৩ অক্টোবর নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় অবস্থিত কুইন্স কাউন্টি সুপ্রিম কোর্ট আগামী ২৫ অক্টোবরের নির্বাচন আয়োজনের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। সাবেক কর্মকর্তা ওসমান চৌধুরীর সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান এবং তাঁকে সভাপতি পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলাটি কেবল সদস্যপদ প্রত্যাখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমান বিরোধের পেছনে রয়েছে বাংলাদেশ সোসাইটির আগের নির্বাচন ঘিরে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ। ২৩ অক্টোবরের তিন পৃষ্ঠার ‘অর্ডার টু শো কজ উইথ টেম্পোরারি রেস্ট্রেইনিং অর্ডার’ পর্যালোচনায় দেখা যায়, কুইন্স কাউন্টি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক চেরি এ বাগস জরুরি বিচারক হিসেবে আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। নির্দেশ অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবরের নির্ধারিত নির্বাচন উপলক্ষে ভোটকেন্দ্র খোলা, ভোটগ্রহণ করা, ভোট গণনা কিংবা নির্বাচনের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন বা ঘোষণা করা যাবে না। আগামী ৫ নভেম্বর সকাল ১০টায় কুইন্স সুপ্রিম কোর্টের পার্ট ২৩, কক্ষ ১৪০-এ পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত রয়েছে। নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে আদালতের এমন আদেশে দীর্ঘ প্রস্তুতির পর কীভাবে পরবর্তী নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালিত হবে, আদালতের নির্দেশের আলোকে কী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব এবং নির্বাচন পুনরায় আয়োজনের সম্ভাব্য প্রক্রিয়া কী হতে পারে—এসব বিষয় সামনে আসে।

আদালতের আদেশ ও মামলার প্রেক্ষাপট

আদালত শুধু ভোটগ্রহণই বন্ধ করেননি, একই সঙ্গে ওসমান চৌধুরীর সদস্যপদ প্রত্যাখ্যানসংক্রান্ত ২৮ আগস্টের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা থেকেও বাংলাদেশ সোসাইটিকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া সংগঠনের মূল ভোটার তালিকা, সদস্যপদের আবেদনপত্র, চাঁদা পরিশোধের হিসাব ও নির্বাচনী ব্যালটসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষণের আদেশও দিয়েছেন আদালত। ফলে বহুল আলোচিত এ নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা ওসমান চৌধুরী ২০২৬ সালের নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী ছিলেন। বাদীর দাবি, নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন ও ২০ ডলার ফি জমা দেওয়ার পরও গত ২৮ আগস্ট বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যনির্বাহী কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে তাঁর আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। আবেদনটি গ্রহণ এবং অর্থ জমার বিষয়টি ২৬১৬০৭ নম্বর রসিদের মাধ্যমে স্বীকার করা হয়েছিল বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। বাদী আদালতের কাছে ২৮ আগস্টের সদস্যপদ প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত বাতিল, বিতর্কিত গঠনতান্ত্রিক বিধানকে অকার্যকর ঘোষণা, তাঁকে বৈধ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত বা পুনর্বহাল এবং সভাপতি পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতা স্বীকৃতির আবেদন জানিয়েছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনসংক্রান্ত অভিযোগে এক রাতে প্রায় ২৭ হাজার কথিত ভুয়া সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ও বাদীপক্ষ উত্থাপন করেছে। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালে আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতের নথিতে মামলার নম্বর ৭৩২১৭৪/২০২৬। আদালত আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে বিবাদীদের কাছে আদেশ ও সংশ্লিষ্ট মামলার নথি নির্ধারিত পদ্ধতিতে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রত্যাখ্যান ও আইনি বিরোধ

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর পাঠানো প্রত্যাখ্যানপত্রে সোসাইটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চলমান মামলা এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্রের নবম অনুচ্ছেদের ৬ নম্বর ধারাকে সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওসমান চৌধুরীর অভিযোগ, এর আগে সংগঠনের বিভিন্ন নির্বাচনী অনিয়ম ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার কারণেই তাঁর সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। বাদীপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান স্থায়ী নয় বলে চিঠিতে উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নষ্ট হয়েছে। আদালতের এ নির্দেশের পর শুক্রবার রাতে সোসাইটির কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন কমিশন। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসেরসহ সংগঠনের শীর্ষ কর্মকর্তারা আদালতের আদেশ, মামলার অভিযোগ এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরবর্তী করণীয় নিয়ে কথা বলেন। আট বছর পর আবারও নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে আদালতের নিষেধাজ্ঞা আসায় সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তি, সদস্যপদের অধিকার এবং নির্বাচন পরিচালনার নিয়ম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, পরবর্তী শুনানিতে বিবাদীপক্ষ তাদের বক্তব্য ও আইনি যুক্তি উপস্থাপন করতে পারবে। এরপরই আদালত প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে, সংশোধিত হবে নাকি প্রত্যাহার করা হবে, তা আদালতের পরবর্তী আদেশের ওপর নির্ভর করছে। আপাতত ব্যালটের বদলে আদালতেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনের পরবর্তী পথ। এখন সবার নজর ৫ নভেম্বরের শুনানির দিকে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়েও কোনো চূড়ান্ত রায় আসেনি। বাদীপক্ষ বাংলাদেশ সোসাইটির গঠনতন্ত্র ও উপবিধির নবম অনুচ্ছেদের ৬ নম্বর ধারার বৈধতাও চ্যালেঞ্জ করেছে। বাদীপক্ষের যুক্তি, সংশ্লিষ্ট বিধানটি নিউইয়র্কের প্রচলিত আইন ও জননীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং সদস্যদের আইনি প্রতিকার চাওয়ার অধিকার সীমিত করে। নিউইয়র্কের সিভিল প্র্যাকটিস ল অ্যান্ড রুলসের আর্টিকেল ৭৮ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিধানের অধীনে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। ওসমান চৌধুরীর দাবি, তিনি এর আগেও সংগঠনের অভ্যন্তরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন, কিন্তু যথাযথ প্রতিকার পাননি। বিবাদীদের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকরপোরেটেড, সভাপতি এস এম এ রহমান ওরফে সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের অন্য সদস্যদের পাশাপাশি ট্রাস্টি বোর্ড ও কার্যনির্বাহী পরিষদের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ সোসাইটির এবারের নির্বাচনে ৩৫ হাজার ২১৫ জন নিবন্ধিত ভোটারের অংশগ্রহণের কথা ছিল। দুটি প্যানেলের ৪২ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৪৩ জন প্রার্থী কার্যনির্বাহী পরিষদের ২১টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun