চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় শয়নকক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় এক যুবককে ধারালো হাসুয়া দিয়ে গলা কেটে হত্যাচেষ্টার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান আসামি মোঃ হাসান আলী (২৭)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তিনি বিজ্ঞ আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দিও প্রদান করেছেন।মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর দিবাগত রাত (২৮ অক্টোবর) আনুমানিক রাত ২টার দিকে দামুড়হুদা থানাধীন তারিনীপুর গ্রামের ফার্নিচার রংমিস্ত্রী মোঃ হোসেন আলী (২৩) নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে শয়নকক্ষের দেয়ালের ইটের ফাঁকা স্থান দিয়ে ধারালো অস্ত্র প্রবেশ করিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলায় গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।এ ঘটনায় ভিকটিমের বড় বোন শামসুন্নাহার বাদী হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে একটি এজাহার দায়ের করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে দণ্ডবিধি আইনের ৪৪৭/৩২৬/৩০৭ ধারায় মামলা নং-১৭ (তারিখ: ২৮/১০/২০২৬ খ্রিঃ) রুজু করা হয়।ঘটনার পর চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার জনাব মেহেদী শাহরিয়ারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) জনাব শেখ মোহাম্মদ নুরুল্লাহ্র সরাসরি তত্ত্বাবধানে তদন্তে নামেন দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মোঃ রাসেল মিয়া।তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও পুলিশি তৎপরতায় গত ৩ নভেম্বর দিবাগত রাত ১১:৩৫ ঘটিকার সময় দামুড়হুদার তারিনীপুর এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি মোঃ হাসান আলীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেফতারকৃত হাসান আলী তারিনীপুর মাঠপাড়ার মোঃ ইদ্রিস আলীর ছেলে (বর্তমানে মেহেরপুর সদরের পিরোজপুর ফুলবাগানপাড়ার বাসিন্দা)।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসান আলী স্বীকার করেন যে, পূর্বশত্রুতার জেরে ওই রাতে হোসেন আলীকে হত্যার উদ্দেশ্যেই তিনি ধারালো হাসুয়া দিয়ে গলা কেটে জখম করেন এবং রাতেই মেহেরপুরে পালিয়ে যান।দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি অপরাধের কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।