মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের ফলে সৃষ্ট ছাইয়ের প্রভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। এমিরেটস, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ, এয়ার অ্যারাবিয়া ও ফ্লাইদুবাইয়ের মতো বড় এয়ারলাইন্সগুলো পরিস্থিতি সামাল দিতে নিয়মিত ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তন, বাতিল এবং পুনর্নির্ধারণের মতো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে। আগস্টের শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনার জেরে উপসাগরীয় আকাশসীমায় বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দুবাই ও আবুধাবির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (EASA) উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশসীমা নিয়ে তাদের সতর্কতা ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করেছে। এই দীর্ঘমেয়াদী সতর্কতার কারণে পুরো মাসজুড়েই আকাশপথে রুট পরিবর্তন ও সময়সূচির অস্থিরতা বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে ইন্দোনেশিয়ার ক্রাকাতাও অঞ্চলের আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের কারণে জাকার্তার সোয়েকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় এমিরেটস তাদের দুবাই-জাকার্তা রুটে ৬ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করেছে। ইতিহাদ এয়ারওয়েজও একই রুটে ফ্লাইট বিলম্ব ও বাতিলের কবলে পড়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ রুটেও এর প্রভাব স্পষ্ট। এমিরেটস তাদের দুবাই-কুয়েত পরিষেবা স্থগিত রেখেছে এবং বাহরাইন রুটে ফ্লাইট সংখ্যা সীমিত করেছে। অন্যদিকে, ফ্লাইদুবাই ও এয়ার অ্যারাবিয়া কুয়েত ও বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে তাদের ফ্লাইট সূচিতে সমন্বয় আনতে বাধ্য হয়েছে। এছাড়া ইউরোপ ও এশিয়ার বেশ কিছু রুটেও ইতিহাদ এয়ারওয়েজের ফ্লাইট চলাচলে বিলম্বের খবর পাওয়া গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো নিয়মিত আপডেট প্রদান করছে। কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের পরামর্শ দিয়েছে, বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা বারবার যাচাই করতে এবং এয়ারলাইন্সের নিজস্ব অ্যাপ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের নোটিফিকেশন অনুসরণ করতে। আকাশসীমার পরিস্থিতি এবং আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের প্রভাব পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট পরিবর্তনের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে, তাই যাত্রীদের হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর অনুরোধ করা হয়েছে।