রাজধানীজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা। সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না পর্যাপ্ত জ্বালানি। এতে একদিকে যেমন কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, তেমনি কমে যাচ্ছে চালকদের দৈনিক আয়। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন চালক অহিদ আলী। তিনি জানান, গ্যাসের জন্য তিন থেকে চার ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করেও মাত্র ৭০-৮০ টাকার গ্যাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। গ্যাসের চাপ অত্যন্ত কম থাকায় এই অল্প পরিমাণ গ্যাস নিয়ে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
অহিদ আলী জানান, ১৫ হাজার টাকা বাসা ভাড়া দিয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সংসার চালানো এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও বর্তমান গ্যাস সংকটে তিনি দিশেহারা। তার ভাষ্যমতে, সিএনজির দৈনিক জমা ১২০০ টাকা দেওয়ার পর হাতে ২০০ টাকা রাখাটাও এখন অনেক চালকের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন শাহবাগ এলাকার চালক ওসমান। তিনি জানান, দিনের বেশিরভাগ সময় স্টেশনের সিরিয়ালে বসে থাকতে হয়, যার ফলে আয়ের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
গ্যাস সংকটের এই দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব নিয়ে আরেক চালক সেলিম বলেন, এই সমস্যার সমাধান কবে হবে তা কারো জানা নেই। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ায় তারা অসহায় বোধ করছেন। চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার ফলে তাদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে এবং দিনশেষে আয়ের অংক আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সিএনজি স্টেশনগুলোর সামনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে। চলমান এই গ্যাস সংকট শুধু পরিবহন খাতের চালকদের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে না, বরং এর নেতিবাচক প্রভাব শিল্পসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতেও ছড়িয়ে পড়ছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে চালকদের জীবনযাত্রার মান আরও অবনতির দিকে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপরও ৭০-৮০ টাকার বেশি গ্যাস নিতে পারেন না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ছেলে-মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার।