স্বর্ণসহ বিভিন্ন মূল্যবান পণ্য পাচারে সহযোগিতার অভিযোগ ওঠায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন ওরফে ‘মঈনউদ্দীন লোটাস’-কে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো বিভাগ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রশাসন বিভাগ থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এই বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। আদেশে সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. মঈন উদ্দিনকে (পি-৩৬৭০৯) তার বর্তমান কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অফিস আদেশের নির্দেশনা অনুযায়ী, মঈন উদ্দিনকে ৭ সেপ্টেম্বর কার্গো বিভাগ থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ নিতে বলা হয়েছে। এরপর মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) তাকে নতুন কর্মস্থল ডিএসও, মতিঝিল, ঢাকার ফার্মগেটে রিপোর্ট করতে হবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দরের কার্গো সুবিধা ব্যবহার করে স্বর্ণ ও অন্যান্য মালামাল পাচারে সহায়তার গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এছাড়া কার্গো এলাকার বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো বিভাগ দেশের আমদানি-রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য এই বিভাগের মাধ্যমে আসা-যাওয়া করে, তাই এখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। মঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যদিও তার বদলির অফিস আদেশে অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা প্রমাণের কথা উল্লেখ করা হয়নি, তবে প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে বিমানবন্দরের কার্গো বিভাগে অনিয়ম ও পণ্য পাচার রোধে কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে। বিশেষ করে স্বর্ণ চোরাচালানের মতো ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগের পর কার্গো ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ফেরানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কার্গো বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্বশীলদের কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বদলি আদেশে মূলত তার কর্মস্থল পরিবর্তনের বিষয়টিই জানানো হয়েছে।