1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন

‘রাষ্ট্রের ভেতর আরেক রাষ্ট্র’ খ্যাত জঙ্গল সলিমপুরেই হচ্ছে অত্যাধুনিক কারাগার

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬

একসময় ‘রাষ্ট্রের ভেতর আরেক রাষ্ট্র’ হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে এবার গড়ে তোলা হচ্ছে দেশের অত্যাধুনিক একটি কারাগার। যে এলাকায় একসময় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দাপটে দেড় লাখের বেশি মানুষ জিম্মিদশায় ছিলেন, সেই এলাকাটিই এখন বেছে নেওয়া হয়েছে অপরাধ সংশোধন ও পুনর্বাসনের নতুন কেন্দ্র হিসেবে। ৭০ একর জমিতে নির্মিতব্য এই কারাগারে প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম মহানগর আদালতে বিচারাধীন প্রায় দুই হাজার আসামিকে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। জঙ্গল সলিমপুর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী এবং নগরীর বায়েজিদ, পাহাড়তলী ও খুলশী এলাকার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চল। এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ চলত। একাধিক উচ্ছেদ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি কয়েক মাস আগেও র‌্যাব সদস্যকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে সেখানে। এখন সেই এলাকাটিই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং সেখানে নতুন কারাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে ৭০ একর জমি বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া বলেন, বর্তমান কারাগার অতিরিক্ত বন্দির চাপে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি বন্দি থাকায় ওভারলোড পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাই মেগা সিটির প্রয়োজন অনুযায়ী একটি আধুনিক কারাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের স্থাপনাটি প্রায় ১৪০ বছরের পুরোনো। এর ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৪৯ জন হলেও বর্তমানে সেখানে বন্দি রয়েছেন ৬ হাজার ৩৩৮ জন। এর মধ্যে মহানগর আদালতে বিচারাধীন মামলায় আটক প্রায় দুই হাজার বন্দিকে নতুন কারাগার নির্মাণের পর সেখানে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের ডিআইজি (প্রিজন) মো. ছগির মিয়া জানান, নতুন কারাগার নির্মিত হলে সেখানে মেট্রো এলাকার হাজতি ও কয়েদিদের রাখা হবে। এতে জেলা ও মহানগরের বন্দিদের আলাদা রাখা সম্ভব হবে, যা সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় সুবিধা আনবে।

অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে কারা প্রশাসন। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী কারাগারটি কেবল বন্দি আটকে রাখার স্থান হবে না। সেখানে পুনর্বাসন, শিক্ষা ও খেলাধুলার সুযোগের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বন্দিদের দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থাও থাকবে, যাতে মুক্তির পর তারা সমাজে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া জানান, আধুনিক কারাগারের ধারণা অনুযায়ী বন্দিদের জন্য সীমিত শিক্ষার পরিবেশ, খেলাধুলা এবং প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের সুযোগ রাখা হবে, যাতে তারা সংশোধিত হয়ে পুনরায় অপরাধে না জড়ান।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই পাহাড়ি এলাকায় পরিবেশের ক্ষতি না করে পরিকল্পিতভাবে কারাগার নির্মাণের বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। চট্টগ্রামের হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে পরিকল্পিতভাবে কারাগার নির্মাণ করা হলে এটি মানবাধিকার ও উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিবাচক উদ্যোগ হতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun