জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন নিউইয়র্ক সফরের সময় বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনা সফল হলে আগামী সপ্তাহেই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় কতটি বা কোন ধরনের উড়োজাহাজ কেনা হবে এবং এর চূড়ান্ত মূল্য বা অর্থায়ন কাঠামো কেমন হবে—তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। উড়োজাহাজ সরবরাহের সময়সূচিও অজানা রয়ে গেছে।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার একটি বড় চুক্তি করেছিল। সেই চুক্তির আওতায় আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজ আসার কথা রয়েছে। ওই চুক্তির তালিকামূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রায় ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলার। এরপর গত আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে কয়েক শ কোটি ডলার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে সেই সময় উড়োজাহাজের সংখ্যা বা ধরন সম্পর্কে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কেনার এই পরিকল্পনার বিষয়ে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, নতুন কোনো বোয়িং চুক্তির বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সফরের কর্মসূচিতে পরিবর্তনের অবকাশও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে মোট ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এপ্রিল মাসে করা ১৪টি উড়োজাহাজের চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে বিমান বহরে বড় ধরনের সক্ষমতা তৈরি হবে, যার ফলে আন্তর্জাতিক রুটে তাদের কার্যক্রম আরও প্রসারিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বোয়িংয়ের সঙ্গে এই উদ্যোগের পাশাপাশি এয়ারবাসের কাছ থেকেও উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, বিমানের বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় চারটি এ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি এ৩২১নিওসহ মোট ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন সম্ভাব্য চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে বিমানের বহর আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের লক্ষ্যমাত্রা আরও বেগবান হবে। তবে চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এসব উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি মূলত সম্ভাবনার পর্যায়েই থাকছে।