1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
গুলিস্তানে জাসদ কার্যালয়ে অভিযান: শতাধিক ব্যক্তি আটক দেশের ৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা রাজনৈতিক সংকটে মমতা: শেষ পরিণতি কি ইন্দিরা গান্ধীর মতো? বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি সই শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে ভারতে মাদক পাচারের রুট শনাক্ত আওয়ামী দোসরদের আটক করলে পুলিশকে পুরস্কৃত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে লুটপাট ও ভাঙচুর: গ্রেপ্তার ৪ থাইল্যান্ডে ভারী বর্ষণে বন্যা, ব্যাংককের ৫০ জেলায় জরুরি অবস্থা ঝিনাইদহে পুরাতন ডিসি কোর্ট এলাকায় ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার ইলিশ মাছের পুষ্টিগুণ ও খাওয়ার ক্ষেত্রে জরুরি সতর্কতা

রাজনৈতিক সংকটে মমতা: শেষ পরিণতি কি ইন্দিরা গান্ধীর মতো?

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজনীতিতে যতিচিহ্নের কোনো স্থান নেই—এই প্রবাদটিই আজ যেন ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বারবার ফিরে আসছে। চলতি বছরের ১৮ মার্চ রাজ্যসভার ৫৯ জন সদস্যের মেয়াদ শেষ হওয়ার দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন, রাজনীতিতে কোনো যতিচিহ্ন নেই। আজ যাকে রাজনৈতিকভাবে শেষ বা নিবু নিবু মনে হচ্ছে, একদিন হয়তো সেই নেতা বা দলই আবার দাবানলের মতো জ্বলে উঠবে। বর্তমান পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থাও যেন এই তত্ত্বেরই এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। চলতি বছরের ১৮ মার্চ কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, মহারাষ্ট্রের এনসিপি নেতা শারদ পাওয়ার, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়াসহ ৫৯ জন রাজ্যসভা সদস্যের মেয়াদ শেষ হওয়ার দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই আপ্তবাক্য মনে করিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, ‘রাজনীতিতে যতিচিহ্ন। তৃণমূল কংগ্রেসকে দুরমুশ করে এই বছরের মে মাসে যারা প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছে, সেই বিজেপির রাজ্য–নেতৃত্ব অবশ্য সদর্পে ঘোষণা করেছেন, মমতাকে তাঁরা শেষ করে ছাড়বেন। বিজেপির হিন্দুত্ববাদ মোকাবিলায় মমতা কোথায় ভুল করলেন।

একসময় যে তৃণমূল কংগ্রেস ও জোড়া ফুল প্রতীক ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপ্রতিদ্বন্দ্বী পরিচয়, নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে এখন সেই নাম ও প্রতীক ব্যবহারের অধিকারই খর্ব হয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে যে উপনির্বাচন হতে চলেছে, সেখানে কোনো পক্ষই এই নাম ও প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। নন্দীগ্রাম অধিকারী পরিবারের প্রভাবাধীন এলাকা, আর রেজিনগর মুসলমানপ্রধান। শুভেন্দু অধিকারীর কৌশলী পদক্ষেপে তৃণমূলের প্রার্থীরা কোণঠাসা। রেজিনগরের মূল শক্তি হুমায়ুন কবির আসন ছেড়ে দেওয়ায় উপনির্বাচন হচ্ছে, আর চাপের মুখে তৃণমূলের প্রার্থীরা প্রচার থেকেও সরে দাঁড়াচ্ছেন। ফলে এই এলাকায় বিজেপির জয় নিশ্চিত কি না, তা নিয়ে এখন বড় কৌতূহল তৈরি হয়েছে। মমতা বনাম মমতাত্যাগী তৃণমূলিদের সম্ভাব্য নির্বাচনী টক্কর ঘিরে উত্তেজনার যে ফানুস উড়ছিল, গুরুমারা বিদ্যা প্রয়োগে তাতে সুচ ফুটিয়েছেন শুভেন্দু। রেজিনগরের প্রার্থী টলমল করতে করতে টিকে আছেন ঠিকই কিন্তু রাষ্ট্রীয় চাপ সহ্য করতে না পেরে প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেখানকার মূল শক্তি আমজনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবির, যিনি এই আসন ছেড়ে দেওয়ায় উপনির্বাচন। ফলে ৭০ শতাংশ মুসলমান এলাকায় বিজেপি জেতে কি না, সেটাই আপাতত মূল আকর্ষণ।

কিছুদিন আগেও বিরোধী জোটে রাহুল গান্ধীকে গুরুত্ব না দেওয়া মমতা আজ অনেকটা বাধ্য হয়েই কংগ্রেসের দ্বারস্থ। তাঁর এই অবস্থান পাঁচ মাস আগে নিলে হয়তো রাজ্যের চিত্র ভিন্ন হতো। পশ্চিমবঙ্গের গত বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় এক কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া, ২৭ লাখ ভোটারকে ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি করা এবং সাড়ে ৭০০ সরকারি আমলাকে ক্ষমতাহীন করার মতো অভিযোগ উঠেছে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। এই প্রতিকূলতার মধ্যেও তৃণমূল ৪১ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে। সাবেক মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়াকে ‘১০০ শতাংশ স্ক্যাম’ বলে অভিহিত করেছেন।

পরিসংখ্যান বলছে, বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছে ৪৬ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট, যেখানে লোকসভা নির্বাচনে তাদের ভোট ছিল ৩৯ শতাংশ। অর্থাৎ বিজেপি ৭ শতাংশ ভোট বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। তৃণমূল পেয়েছে ৪১ দশমিক ১৬ শতাংশ, কংগ্রেস ২ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং সিপিএম ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ ভোট। বাম ও কংগ্রেসের ভোট যোগ করলে বিজেপিবিরোধী শক্তির মোট ভোট ৫০ দশমিক ৭২ শতাংশে দাঁড়ায়। মমতার অতিরিক্ত আত্মম্ভরিতা ও কৌশলের অভাবে এই ভোট বিভাজিত হয়েছে, যা বিজেপির উত্থানকে সহজ করে দিয়েছে। নন্দীগ্রামে মমতার প্রার্থী বসে গেছেন।

৭১ বছর বয়সে এসে মমতা এখন এক গভীর সংকটে। ইন্দিরা গান্ধীর রাজনৈতিক জীবনের সাথে তাঁর পরিস্থিতির তুলনা করা হলেও কিছু মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান। ৫০ বছর বয়সে যখন ইন্দিরা কংগ্রেসি কোন্দল সামলাচ্ছিলেন, মমতা তখন তাঁর রাজনৈতিক গোধূলিবেলায়। ইন্দিরাকে গদিছাড়া করেছিলেন ৭৫ বছর বয়সী জয়প্রকাশ নারায়ণ। মমতার সামনে এখন প্রশ্ন—তিনি কি মায়াবতীর মতো বিলীন হয়ে যাবেন, নাকি ইন্দিরা গান্ধীর মতো ছাই থেকে নতুন করে জন্ম নেবেন? কংগ্রেসের একাংশ মনে করে, মমতাকে দলে নিলে তাঁর বিগত দিনের অপকর্মের দায় তাদের ওপর বর্তাতে পারে। তাই বিজেপিবিরোধী জোটের সঙ্গী হওয়া ছাড়া মমতার হাতে আর খুব বেশি বিকল্প অবশিষ্ট নেই। যে দল বা নেতার হাল দেখে মনে হচ্ছে জনজীবনে দেওয়ার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট নেই; একদিন দেখা যেতে পারে ফিনিক্স পাখির মতো ধ্বংসস্তূপ থেকে মাথা তুলে তিনি আবার ডানা ঝাপটাচ্ছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun