ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি খাতের এলপিজি গ্যাসের দাম আবারও বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এলপিজির দাম প্রতি কেজিতে ২১ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকায়, যা আগে ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। গত মাসে অবশ্য এলপিজির দাম ১৩ টাকা কমানো হয়েছিল। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জানিয়েছে, এই নতুন দাম রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে। এপ্রিলের শুরুতে ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ানো হয় ৩৮৭ টাকা। এ মাসে আবার বড় রকমের উল্লম্ফন দেখা গেল।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম বেশ অস্থির। গত দুই মাস ধরে দাম ওঠানামার মধ্যে থাকলেও এবার বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি ঘটল। বর্তমানে বাজারে চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় খুচরা পর্যায়ে নির্ধারিত দামের চেয়েও সিলিন্ডার প্রতি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অথচ গৃহস্থালির রান্নার কাজে এই এলপিজি সিলিন্ডার এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এলপিজির দাম বেড়েছিল। যদিও গত তিন সপ্তাহ ধরে চাহিদার চেয়ে এলপিজি সরবরাহ কমেছে বাজারে। গ্যাস সংকটে পড়ে অনেকেই বাসায় রান্না করতে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন।
বিইআরসির তথ্যমতে, এখন থেকে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১৩২ টাকা ১২ পয়সা। এছাড়া অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটারে ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সায়। তবে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে বিইআরসি নিয়মিত এলপিজির দাম সমন্বয় করে আসছে। সৌদি আরবের আরামকো কোম্পানির এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেনের মূল্য তালিকা (সিপি) এবং ডলারের বিনিময় হারকে ভিত্তি ধরে এই দাম নির্ধারণ করা হয়। দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দাম বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছিল গত এপ্রিলে, যখন দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। পরবর্তীতে জুন ও জুলাইয়ে টানা দুই মাস দাম কমানোর পর এবার আবারও মূল্যবৃদ্ধি পেল। এরপর একই মাসের ১৯ এপ্রিল আবার বাড়ানো হয় ২১২ টাকা।