1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শাহজালালে সোনা পাচার: মালয়েশীয় নাগরিকের ছয় দিনের রিমান্ড সৌদি-আমিরাত নতুন করে কি সম্পর্কের পথে ফিরছে? কৃষকদের সার সহায়তায় বিশ্বব্যাংক থেকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার পাবে শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রী ভোগান্তি ও অপপ্রচারের নেপথ্যে পঞ্চগড়ে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ খেয়ে অসুস্থ ৩৬ শিক্ষার্থী ঢাকায় ফ্যাশন শোতে পাকিস্তানি অভিনেতা ওয়াহাজ আলী দুর্গাপূজায় দোকানপাট খোলা রাখার সময় বাড়ল ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষকতাকে মেধাবীদের প্রথম পছন্দ করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি পুননির্ধারণ, মিলবে টানা পাঁচ দিন ঠাকুরগাঁওয়ে ‘গুণী শিক্ষক’ সম্মাননা পেলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

নিরাপত্তার কড়াকড়িতেও গুলশানে অপরাধের আতঙ্ক ও ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬

বিদেশি দূতাবাস, করপোরেট অফিস এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আবাসস্থল হওয়ায় রাজধানীর গুলশান এলাকা সবসময়ই বাড়তি নিরাপত্তা বেষ্টনীতে থাকে। পুলিশি টহল, নিয়মিত চেকপোস্ট, সিসি ক্যামেরা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি’র তৎপরতা সত্ত্বেও এলাকাটিতে অপরাধ দমানো যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে এই ভিআইপি এলাকায় মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, ছিনতাই ও অপহরণের মতো ঘটনাগুলো বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তবে এত নিরাপত্তার মধ্যেও এলাকাটিতে একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটেই চলেছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, গুলশান বিভাগ অপরাধ প্রবণতার বাইরে নয়। পুলিশের তালিকায় থাকা রাজধানীর প্রায় ১ হাজার ২৮০ জন চাঁদাবাজের একটি অংশ গুলশান-১ ও ২ এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। এসব অপরাধী গোষ্ঠী স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ফুটপাতের দোকান, ইন্টারনেট ও ক্যাবল ব্যবসার মতো খাতে নিয়মিত চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রধান সড়কের চেয়ে আবাসিক এলাকার নির্জন গলিগুলোতে অপরাধের মাত্রা বেশি। এরই মধ্যে হঠাৎ একটি মাইক্রোবাস এসে তার পাশে ব্রেক করে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, গভীর রাতে বা ভোরে পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীদের টার্গেট করে অস্ত্রের মুখে মাইক্রোবাসে তুলে সর্বস্ব লুট করা হচ্ছে। গুলশান-২ এর ৯৬ নম্বর রোডের এক বাসিন্দার কর্মী সম্প্রতি এমন পরিস্থিতির শিকার হন। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে তুলে নিয়ে মোবাইল ও ম্যানিব্যাগ কেড়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। একই ধরনের ঘটনায় গুলশান-১ এর নাভানা টাওয়ার এলাকায় অপহরণের শিকার হওয়া এক ব্যক্তিকে মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় বোরহান উদ্দিন পাপ্পু নামে একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া গুলশান-২ এর ১০৩ নম্বর রোডের একটি ভবনে অর্ধশত ব্যক্তির অংশগ্রহণে ডাকাতির প্রচেষ্টাসহ একাধিক বড় অপরাধের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে রাত ও ভোরের দিকে একা চলাচলকারী মানুষ, মোটরসাইকেল আরোহী কিংবা নগদ অর্থ বহনকারী ব্যক্তিদের টার্গেট করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, দিনদুপুরে গাড়িতে তুলে হাত-মুখ বেঁধে সর্বস্ব লুট করে রাস্তায় ফেলে দেয়ারও ঘটনা ঘটছে। গুলশান-২ এর ৯৬ নম্বর রোডের এক বাসিন্দা বলেন, কিছুদিন আগেই আমাদের বাসার এক কর্মী একটি কাজে বাইরে গিয়েছিলেন। তিনি ৯৯ নম্বর রোড ধরে হেঁটে ৯৬ নম্বর রোডে আসছিলেন। মুহূর্তের মধ্যেই অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে জোর করে ওই গাড়িতে তোলে ৩/৪ যুবক।

গত ৩ সেপ্টেম্বর বনানীতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ, যাদের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, ওয়াকিটকি ও পুলিশের মনোগ্রামযুক্ত হ্যান্ডকাফ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন র‍্যাব সদস্যও ছিলেন। এলাকাটিতে ময়লা ব্যবসার দখল নিয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে; বারিধারায় তৌহিদ নামে এক শ্রমিককে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় বান্দরবান থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। এছাড়াও গুলশান লেকপাড়ে নার্সারি ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম করিমকে গুলি ও গুলশান এভিনিউয়ের ২৯ নম্বর রোডে যৌথ বাহিনীর পোশাকধারী দুর্বৃত্তদের হাতে ৪৬ লাখ টাকা ও ৬০ ভরি স্বর্ণালংকার লুটের মতো ঘটনা ঘটেছে।

সম্প্রতি ৩ নম্বর রোডে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকাবাসীর নিরাপত্তাহীনতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্থানীয় বাসিন্দা নাঈমুর রহমান জানান, প্রকাশ্যে এমন কর্মকাণ্ড চলার পর সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা আরও বেড়েছে। এমনকি বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে চাঁদা চেয়ে হুমকির ঘটনাও গুলশানের বাসিন্দাদের চিন্তিত করেছে। বর্তমানে এলাকাবাসীর বিভিন্ন যোগাযোগ গ্রুপে ‘জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা’ প্রচার করা হচ্ছে, যেখানে একা চলাচলের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন ও অপরিচিত গাড়ির বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এসব অপরাধের বিষয়ে এসআরবি’র আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, পুরো এলাকায় নিয়মিত টহল ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার কথা উল্লেখ করে নগরবাসীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করার আহ্বান জানান। নতুন যোগ দেওয়া গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর দাবি করেন, অন্যান্য এলাকার তুলনায় গুলশানের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun