দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী উড়োজাহাজগুলোর জ্বালানি খরচ আবারও বৃদ্ধি পেল। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জেট ফুয়েলের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে, যা ৭ অক্টোবর দিনগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হয়েছে। এই সমন্বয়ের ফলে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ব্যবহৃত প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের মূল্য এখন ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা। অথচ সেপ্টেম্বর মাসে এর দাম ছিল প্রতি লিটারে ১৬৫ টাকা ৬৫ পয়সা। অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে অভ্যন্তরীণ রুটের জ্বালানি মূল্য ১৭ টাকা ৬ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা শতাংশের হিসেবে প্রায় ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এখন থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ব্যবহৃত প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম শুল্ক ও মূল্য সংযোজন করমুক্ত হিসেবে ১ দশমিক ১৮৮২ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিপূর্বে এই দাম ছিল ১ দশমিক ০৭৭০ মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক বাজারে জেট এ-১ জ্বালানির গড় প্ল্যাটস মূল্যের পরিবর্তন এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের এলসি স্টেটমেন্টে উল্লেখিত মার্কিন ডলারের বিনিময় হার—এই দুই বিষয় বিবেচনায় নিয়েই কমিশন নতুন এই মূল্য তালিকা প্রকাশ করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এভিয়েশন খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উড়োজাহাজ পরিচালনার সামগ্রিক খরচের একটি বড় অংশজুড়ে থাকে জেট ফুয়েল। ফলে এই জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি সরাসরি এয়ারলাইনগুলোর পরিচালন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। যেহেতু আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য এবং ডলারের বিনিময় হার সবসময় ওঠানামা করে, তাই দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়ে এবং কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বিরতিতে এই দাম সমন্বয় করে থাকে। জ্বালানির এই বাড়তি মূল্য শুধু বিমান সংস্থাগুলোর আর্থিক চাপই বাড়াচ্ছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে তা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় রুটের বিমান চলাচল ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
নতুন নির্ধারিত এই দাম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। জ্বালানি খাতের এই মূল্য পরিবর্তন দেশের এভিয়েশন সেক্টরে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এয়ারলাইনগুলো কীভাবে এই বর্ধিত ব্যয় সমন্বয় করবে এবং যাত্রীদের ভাড়ায় এর কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি মূল্যের স্থিতিশীলতা না আসা পর্যন্ত স্থানীয় বাজারেও এই অস্থিরতা বজায় থাকার সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা।