তিন বছর বিরতির পর নয়াদিল্লিতে আবার শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ কর্মদলের নিয়মিত সংলাপ। গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া ১৬তম এই বৈঠকের প্রথম দিনেই বাংলাদেশ ভারতের বন্দর-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধিনিষেধ দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জোরালোভাবে উপস্থাপন করেছে। দুই দিনব্যাপী চলমান এই বৈঠকটি শুক্রবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এফটিএ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। দলে রেলপথ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বিএসটিআই, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন। কূটনৈতিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বৈঠকের আলোচনায় বাংলাদেশ মূলত আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য চলাচল স্বাভাবিক করা, বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও সহজ করা, এলসিএসের মাধ্যমে বাণিজ্য প্রক্রিয়া গতিশীল করা এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের পথে বাধা হয়ে থাকা বিধিনিষেধগুলো তুলে নেওয়ার বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। এছাড়া পণ্যের মানদণ্ড সমন্বয় এবং সাফটা’র উৎপত্তির নিয়মসহ বিভিন্ন কারিগরি বাণিজ্য ইস্যু নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে। অন্যদিকে, ভারতও তাদের পক্ষ থেকে তুলার সুতার ওপর বাংলাদেশের আরোপ করা বন্দর-সংক্রান্ত বিধিনিষেধসহ এসিএমপি, রেলওয়ে এবং অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্য পরিবহনের মতো বিষয়গুলো আলোচনায় এনেছে। উভয় পক্ষই নিয়মিত গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে ঐকমত্য প্রকাশ করেছে। বৈঠকের আগে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার হিসেবে এসব বিষয়ই উঠে এসেছিল।
উলেখ্য, গত ৩ আগস্ট বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক কারিগরি আলোচনার প্রস্তাব পাঠায়, যার প্রেক্ষিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৪ সেপ্টেম্বর বৈঠকের সম্মতি দেয়। প্রাথমিকভাবে ৭ ও ৮ অক্টোবর সময় নির্ধারিত থাকলেও প্রতিনিধি দলের যাত্রাসংক্রান্ত জটিলতায় সূচি একদিন পিছিয়ে ৮ ও ৯ অক্টোবর পুনঃনির্ধারণ করা হয়। এর আগে সবশেষ ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় দুই দেশের এই যৌথ কর্মদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ তিন বছর পর পুনরায় এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সংলাপ শুরু হওয়ায় উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।