1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
প্রাথমিক শিক্ষকদের ভোগান্তি কমাতে বদলি প্রক্রিয়ায় বড় সংস্কার: ববি হাজ্জাজ ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে নতুন ঘর পেলেন দুই হাত হারানো নূরুল আমিন নারায়ণগঞ্জে ডিএনডি লেকে গোসলে নেমে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু জিয়াউর রহমানের কর্ম ও আদর্শ নিয়ে উঁচুমানের গবেষণার আহ্বান মির্জা ফখরুলের গণমাধ্যমকে অন্ধকার গলি থেকে মুক্ত আকাশে বের করেছেন শহীদ জিয়াই: তথ্যমন্ত্রী মাদারীপুর জেলা হাসপাতালে হাম রোগীদের চিকিৎসায় আইসিইউ সেবা চালু ঢাকার খালগুলোর সীমানা চিহ্নিত করতে পৃথক দুটি কমিটি গঠন স্থানীয় সরকার বিভাগের সাতক্ষীরায় পৃথক ঘটনায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু  ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাইরে শান্তিচুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ: গণমাধ্যম অস্ট্রেলিয়া-স্কটল্যান্ডের জয়; ড্র করল সুইজারল্যান্ড-কাতার

টাঙ্গাইলের ৫৬ মণের ‘মানিক’ এখন কুষ্টিয়ায়, এতিমদের জন্য কোরবানি

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ভেঙ্গুলার গ্রামের নারী খামারি হামিদা আক্তার প্রায় ১০ বছর সন্তানের মতো করে লালন-পালন করেছেন সাদা-কালো রঙের একটি ষাঁড়। প্রায় ৫৬ মণ ওজনের সেই ষাঁড়ের নাম তিনি রেখেছিলেন ‘মানিক’। কয়েক বছর ধরে গরুটি বিক্রির চেষ্টা করলেও কাঙ্ক্ষিত দাম পাননি। শেষ পর্যন্ত কুষ্টিয়ার কুমারখালীর আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশন ১১ লাখ ২০ হাজার টাকায় গরুটি কিনে নিয়েছে।

বর্তমানে ‘মানিক’ কুষ্টিয়ার কুমারখালীর নন্দলালপুর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন নগরে ফাউন্ডেশনের খামারে আছে। পবিত্র ঈদুল আজহার তৃতীয় দিনে গরুটি কোরবানি দেওয়া হবে। পরে এর মাংস রান্না করে এতিম, দুস্থ ও অসহায় মানুষকে খাওয়ানো হবে বলে জানিয়েছে ফাউন্ডেশন।

আজ বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, টিনশেডের পাকা ঘরে রাখা হয়েছে ‘মানিক’–কে। মাথার ওপর ঘুরছে ফ্যান। খামারের কর্মচারী রেহেনা বেগম বলেন, গত সোমবার টাঙ্গাইল থেকে গরুটি আনা হয়েছে। তাকে উন্নতমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে।

খামারি হামিদা আক্তার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার এতটুকুই লাভ হয়ছে যে আমি কিছু ঋণ শোধ করতে পারছি। তারপরও আলহামদুলিল্লাহ। সব সময় ইচ্ছা ছিল ভালো একটা লোক পাইলে তার কাছে বিক্রি করব মানিকরে। তাতে লস-লাভ দুই টাকা কমবেশি হোক। তবু কোনো ব্যাপারী কিংবা কসাইয়ের কাছে মানিকরে বেচব না। ভালো লোকের কাছে বিক্রি করতে পেরে খুব খুশি।’ তিনি জানান, গত বছর একজন ১৫ লাখ টাকা দাম বলেছিলেন। এবার একজন ১৮ লাখ টাকা হাঁকিয়ে আর ফিরে আসেননি। তাঁর ইচ্ছা ছিল ২০ লাখ টাকায় গরুটি বিক্রি করবেন। কিন্তু শেষ সময়ে বড় গরুর ক্রেতা না পাওয়ায় কম দামেই বিক্রি করতে হয়েছে।

৫৬ মণ ওজনের ষাঁড় মানিক। প্রায় ১০ বছর লালন–পালন করেছেন খামারি হামিদা

৫৬ মণ ওজনের ষাঁড় মানিক। প্রায় ১০ বছর লালন–পালন করেছেন খামারি হামিদাছবি: সংগৃহীত

হামিদা আরও বলেন, ‘১০ বছর ধইরা পালন করতেছি। খরচের অর্ধেক টাকার চালান উঠে নাই। কষ্ট পরিশ্রম, রাতজাগা এগুলা তো সব বাদই। প্রতিদিন ১০ হালি করে বিচি কলা খায়। ৪ কেজি করে বুট খায়। ভুসি যতটুকু পারে। আর এক কেজি আতপ চালের ভাত খায়। অনেক টাকা ধারদেনা। তাই বিক্রি করে ঋণ শোধ দিছি। এখনো ঋণ আছে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।’

খামারি হামিদা আক্তার বলেন, স্নাতকে পড়ার সময় তাঁর মা মারা গেছেন। পরিবারে ছোট বোন আর বৃদ্ধ বাবা। বর্তমানে মাস্টার্সে পড়ছেন। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্ট হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি বাড়ির খামার দেখাশোনা করছেন। তাঁর ইচ্ছা আছে একটা খামার করার।

আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক মোর্শেদ আলম বলেন, অনলাইনে নারী উদ্যোক্তা হামিদার অসহায়ত্বের বিষয়টি জানার পর ফাউন্ডেশন গরুটি কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। ঈদের তৃতীয় দিনে কোরবানি দিয়ে মাংস এতিম ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun