আন্তর্জাতিক বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমেছে সোনার দাম। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য সংকটের দ্রুত সমাধানের আশা ম্লান হয়ে গেছে।
আর এর জের ধরেই বিশ্ববাজারে সোনার দাম কিছুটা কমেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, বুধবার (২৭ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ড দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৯৪ দশমিক ১৬ ডলারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জুন মাসে সরবরাহের চুক্তিতে সোনার দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৪৯২ দশমিক ৫০ ডলারে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) ইরান অভিযোগ করে, বিতর্কিত হরমুজ প্রণালির কাছে বিমান হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান এফএক্সটিএম’র জ্যেষ্ঠ গবেষণা বিশ্লেষক লুকম্যান ওতুনুগা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তির আশা ম্লান হতে থাকায় সোনার দাম কমে ৪ হাজার ৪৫০ ডলারের সাপোর্ট লেভেলের কাছাকাছি চলে এসেছে। এর বাইরে সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে যে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন গুঞ্জন বাজারে সোনার দাম আরো কমিয়ে দিচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়লে ফেড দীর্ঘ সময়ের জন্য সুদের হার উচ্চ রাখতে পারে।
আর এমনটা হলে সোনার বাজারে আরো বড় ধরনের দরপতন ঘটতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত মূল্যস্ফীতির বাজারে সোনাকে একটি নিরাপদ বিনিয়োগ বা সুরক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে ফেড যদি সুদের হার বাড়িয়ে দেয়, তখন বিনিয়োগকারীরা বন্ডের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ফলে লভ্যাংশহীন ধাতু সোনার ওপর চাপ বাড়ে এবং এর দাম কমে যায়।
তবে জার্মান ব্যাংক কমার্সব্যাংক তাদের এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা প্রশমন সোনার দামের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আর এই কারণেই আমরা আশা করছি যে চলতি বছরের শেষের দিকে সোনার দাম আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।
সোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও পতন দেখা গেছে। রুপার (স্পট সিলভার) দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স বিক্রি হচ্ছে ৭৫ দশমিক ৩৭ ডলারে। এ ছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯২৭ দশমিক ০৪ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৬৫ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে এসেছে।