বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি তুলে ধরতে খুলনায় তথ্য অফিসের উদ্যোগে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার বেলা ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে এ প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
ব্রিফিংয়ে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষি, পরিবেশ সংরক্ষণ, নারী উন্নয়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিস, খুলনার পরিচালক গাজী জাকির হোসেন প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ’-এই দর্শনের ভিত্তিতে ‘We Have a Plan’ এর আলোকে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণে বর্তমান সরকার কাজ করছে।
এ লক্ষে বিভিন্ন নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে একাধিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামে একটি ডিজিটাল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করেছে। পরিবারের নারী প্রধানের নামে এই স্মার্ট কার্ড প্রদান করা হবে।
প্রাথমিকভাবে দেশের ৫০ লাখ দরিদ্র গ্রামীণ পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। গত ১০ মার্চ ২০২৬ রাজধানীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিএন্ডটি মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৪টি উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ৩৭ হাজার ৫৬৭টি হতদরিদ্র পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
এর মধ্যে খুলনা সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে প্রথম পর্যায়ে ৫ হাজার ২৭৫ জন উপকারভোগীর মধ্যে ৪ হাজার ১৫৮ জনের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি কার্ডও বিতরণ করা হবে বলে জানানো হয়।
সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, পুনঃখনন এবং পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা নিয়েছে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত ‘স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচি’ পুনরায় বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ৫৪ জেলায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি।
বর্তমানে খুলনার ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, দাকোপ, দিঘলিয়া, তেরখাদা, রূপসা, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় খাল খননের কাজ চলমান রয়েছে।
‘সবুজ হোক দেশ, নির্মল হোক পরিবেশ’-স্লোগানকে সামনে রেখে আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে জানানো হয়।
একইসঙ্গে ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা প্রায় আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
এছাড়া আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ‘সার্কুলার ফিউচার মডেল’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
প্রতিটি উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫০০টি করে মোট ২ হাজার গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়।
নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিআরটিসির মাধ্যমে মহিলা বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাসের মাধ্যমে পরিচালিত এই বিশেষায়িত সেবায় চালকসহ সব দায়িত্ব নারীরা পালন করবেন বলে জানানো হয়।
‘কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ, গড়বো সুফলা বাংলাদেশ’-এই প্রতিপাদ্যে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি চালু করেছে সরকার। এই কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকরা ভর্তুকি, সহজ শর্তে ঋণ, বীজ ও সারসহ ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন। গত ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
প্রথম ধাপে ১০ জেলার ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়া হয়েছে। কৃষকরা বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তাও পাবেন। আগামী চার বছরে প্রায় ১৬ কোটি ৫০ লাখ কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, গত ১৮০ দিনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর সারাদেশে ১ হাজার ২১টি উঠান বৈঠক, ২০২টি নারী সমাবেশ, ১১ হাজার ৬০টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ৩ হাজার ২৪৮টি সড়ক প্রচার এবং ২ হাজার ৩১৬টি অনলাইন প্রচারণা পরিচালনা করেছে।
এছাড়া বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিস, খুলনা গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১৫২টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ৬৫টি সড়ক প্রচার, ১০টি উঠান বৈঠক, ২টি নারী সমাবেশ, ১টি ফ্যামিলি সমাবেশ এবং প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির ৪টি লাইভ সম্প্রচার বাস্তবায়ন করেছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এ ধরনের প্রচার ও গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার, সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।