1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
জমকালো আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ফয়সাল সরকারের জন্মদিন গাজীপুরে কৃষক লীগ নেতাকে আটকের পর অর্থের বিনিময়ে মুক্তির অভিযোগ, এসআইয়ের বিরুদ্ধে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম এয়ারলাইন্স ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জয় বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসলে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয় : গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী মালিজুড়ে নতুন করে সমন্বিত বিদ্রোহী হামলা নোয়াখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১  দুর্নীতি করলে বদলি নয়, চাকরিচ্যুত করা হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী  এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে অনুপস্থিত সাড়ে ২৭ হাজার, বহিষ্কার ১৭ জাপানে ‘ফ্যাশন ওয়ার্ল্ড টোকিও’তে অংশগ্রহণে আগ্রহীদের আবেদনের  আহ্বান জানিয়েছে বিসিক নীলফামারীতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ‘আর্ন’ প্রকল্পের কর্মশালা 

দ্বিতীয় ‘সুপার টাইফুন’ বাভির আঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬

এপ্রিলের পর এবার দ্বিতীয় ‘সুপার টাইফুন’-এর হুমকায় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারা। বাভি নামের এই সুপার টাইফুনটি ৫ম ক্যাটাগরির হারিকেনসম শক্তিশালী বাতাস নিয়ে দ্বীপপুঞ্জের দিকে ধেয়ে আসছে।

যৌথ টাইফুন সতর্কীকরণ কেন্দ্র (জেটিডব্লিউটিসি)’র বরাতে উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের সাইপান থেকে এএফপি  জানিয়েছে, গুয়াম সময় শনিবার সকাল ৭টায় (শুক্রবার ২১০০ জিএমটি) বাভি দ্বীপপুঞ্জের কয়েকশ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থান করছিল। তখন এর সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ২৫৯ কিলোমিটার (১৬১ মাইল) এবং দমকা বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ৩১৪ কিলোমিটার (১৯৫ মাইল)।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করে বলেছে, ‘বর্তমান পূর্বাভাস মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের সব বাসিন্দারই অন্তত ক্রান্তীয় ঝড়ের মতো আবহাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।’

প্রায় দুই লাখ মানুষের বসবাস এই দ্বীপপুঞ্জে। গত কয়েক দিনে জ্বালানি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি, হার্ডওয়্যার দোকানে প্লাইউড এবং সুপারমার্কেটগুলোতে খাদ্য, বোতলজাত পানি ও জরুরি সামগ্রী কেনার ভিড় দেখা গেছে।

উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের কাগমান ভিলেজের বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সী জেফ গার্সিয়া এএফপিকে বলেন, নিরাপত্তাই তাঁদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, ‘আমরা এর আগেও সুপার টাইফুন মোকাবিলা করেছি।’

‘আমরা পানি, মোমবাতি, ব্যাটারি ও টিনজাত খাবারের মতো প্রয়োজনীয় জিনিস কিনেছি… একটি সমাজ হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আমাদের ঐক্য, প্রস্তুতি ও শৃঙ্খলা।’

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের পরিকল্পনা ঝড়ের প্রস্তুতির কারণে অনেকটাই স্থগিত হয়ে গেছে। গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা উভয় অঞ্চলেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

সাইপানের প্যাসিফিক আইল্যান্ডস ক্লাব রিসোর্টের কর্মীরা শুক্রবার জানালায় কাঠের তক্তা লাগানো, বাইরের আসবাব ও সরঞ্জাম নিরাপদে সরিয়ে রাখা, অ্যালার্ম ব্যবস্থা পরীক্ষা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুতের কাজ করছিলেন।

রিসোর্টটির ক্রীড়া, বিনোদন ও কার্যক্রম ব্যবস্থাপক ৩৫ বছর বয়সী রেমার্ক কাস্ত্রো বলেন, ‘আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করছি যাতে ক্ষয়ক্ষতি কম হয় এবং ঝড় চলে যাওয়ার পর দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে পারি।’

আগের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন হুমকি

উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে প্রায় ৪০ হাজার এবং পাশের পৃথক মার্কিন অঞ্চল গুয়ামে প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার মানুষের বসবাস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এ অঞ্চল ছিল গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র।

এপ্রিলের মাঝামাঝি আঘাত হানা সুপার টাইফুন **সিনলাকু** হাজার হাজার মানুষের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়, অসংখ্য গাছ উপড়ে ফেলে, গাড়ি উল্টে দেয় এবং বহু ভবনের টিনের ছাদ উড়িয়ে নেয়।

এ সময় এমভি মারিয়ানা নামের একটি মালবাহী জাহাজের ইঞ্জিন বিকল হয়ে সেটি উল্টে যায়। একজন নাবিকের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও আরও পাঁচজন নিখোঁজ হন, যাঁদের মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমেরিকান রেড ক্রস জানিয়েছে, অনেক মানুষ এখনও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র বা অস্থায়ী ছাউনি দেওয়া ঘরে বসবাস করছেন। এ অবস্থায় বাভির আগমনের আগে সংস্থাটি দুর্যোগ মোকাবিলা দল ও ত্রাণসামগ্রী মোতায়েন করেছে।

আস লিতো গ্রামের ৪২ বছর বয়সী এম মারিলা বলেন, ‘আবারও বিদ্যুৎ ও পানি ছাড়া সেই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে- এ চিন্তাই খুব কষ্টের।’

তিনি বলেন, ‘সহায়তার আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হতে অনেক সময় লাগে। প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় খরচ নিজের পকেট থেকে চালিয়ে যাওয়া সত্যিই ক্লান্তিকর।’

সান আন্তোনিও গ্রামের ৫০ বছর বয়সী হিসাবরক্ষক লেহরি গালভান বলেন, ‘বারবার প্রস্তুতি নেওয়া, পরিকল্পনা করা আর ঘরের ছাদ মেরামত করতে করতে আমি ক্লান্ত।’

তিনি বলেন, ‘এটি আবারও মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের দ্বীপে আরও বেশি মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।’

‘শিশুরাও মানসিক আঘাত নিয়ে বড় হচ্ছে। কিন্তু অল্প বয়সেই তারা জরুরি পরিস্থিতির জন্য কীভাবে প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে রাখতে হয়, তা শিখে গেছে।’

উষ্ণ সমুদ্রের প্রভাব

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস মেরিন সার্ভিস বুধবার জানিয়েছে, বিশ্বের মহাসাগরগুলো চলতি বছরের জুন মাসে ইতিহাসের সর্বোচ্চ উষ্ণতা রেকর্ড করেছে। আগামী মাসগুলোতেও নতুন রেকর্ড গড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উষ্ণ সমুদ্র ক্রান্তীয় ঝড়কে আরও শক্তিশালী করে এবং বায়ুমণ্ডলে অতিরিক্ত আর্দ্রতা যোগ করে, যা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণ হতে পারে।

এদিকে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) শুক্রবার জানিয়েছে, প্রতি দুই থেকে সাত বছর অন্তর দেখা দেওয়া এবং সাধারণত ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী এল নিনো ইতোমধ্যে ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরে শুরু হয়েছে এবং এটি শক্তিশালী রূপ নিতে পারে।

এই প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়ার ফলে মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বাতাসের প্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন ঘটে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun