1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন

কিস্তির টাকা জোগাড় করতে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যার পর স্বর্ণালংকার লুট, রাজমিস্ত্রি গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬

ফেনী সদর উপজেলার শর্শদিতে নির্মাণাধীন ভবনে বালুচাপা দিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী রিনা আক্তারকে (৪৪) হত্যার চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে মামলার প্রধান অভিযুক্ত রাজমিস্ত্রি সাইফুল ইসলামকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঋণের কিস্তির টাকা জোগাড় করতেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে স্বর্ণালংকার লুট করেছিলেন বলে স্বীকার করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ফেনী পিবিআই পুলিশ সুপার উক্য সিংহ। 

গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম (২৯) ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলী বাজার এলাকার আবুল খায়েরের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি। 

পিবিআই জানায়, গত ১২ মে বিকেলে শর্শদি ইউনিয়নের পশ্চিম জোয়ারকাছাড় এলাকায় প্রবাসী মোহাম্মদ মানিকের স্ত্রী রিনা আক্তার তাদের নির্মাণাধীন নতুন বাড়িতে পানি দিতে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যার পরও তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে নির্মাণাধীন ঘরের মেঝেতে থাকা বালুর স্তূপের নিচে তার মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা। ঘটনার পরপরই কাজের রাজমিস্ত্রি সাইফুল ইসলাম এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মহরম আলী বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এই মামলার তদন্ত ভার দেওয়া হয় পিবিআইকে। মামলার তদন্তভার পেয়ে পিবিআই ফেনী কার্যালয়ের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে বুধবার (১৩ মে) দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজীদ বোস্তামি থানার চৌধুরী নগর আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করতে পারায় কয়েকদিন ধরে মানসিকভাবে হয়রানির মধ্যে ছিলেন। এই কিস্তির টাকা সংগ্রহের জন্য পরিকল্পিতভাবে রিনা আক্তারকে হত্যা করেন। ঘটনার দিন বিকেলে রিনা আক্তার নির্মাণাধীন ভবনে পানি দিতে গেলে স্বর্ণালঙ্কার লুটের উদ্দেশ্যে সাইফুল তাকে গলা চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ ঘরের ভেতরে থাকা বালুর স্তুপের নিচে চাপা দিয়ে পালিয়ে যান।

হত্যার পর নিহতের কানে থাকা এক জোড়া স্বর্ণের দুল খুলে নিয়ে মোহাম্মদ আলী বাজারে সাড়ে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন বলেও স্বীকার করেন তিনি। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বর্ণের দোকান থেকে ওই দুল উদ্ধার করেছে পিবিআই।

পিবিআই ফেনীর পুলিশ সুপার উক্য সিং বলেন, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে শুক্রবার (১৫ মে) আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে। আসামি সাইফুল প্রাথমিকভাবে সব স্বীকার করেছে। আদালতে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun