1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে গাজীপুরে বিজিবি মোতায়েন বাড়ল, মাঠে ২৫ ম্যাজিস্ট্রেট গাজীপুরে পঞ্চম দিনেও শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ, পুলিশের গাড়িতে আগুন, আহত বিজিবি সদস্য শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, মাঠে ২১ ম্যাজিস্ট্রেট ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে: নবীন আনসার কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মহাপরিচালক জীবননগরের উথলীতে সন্ন্যাসী বাবার দরবার পরিচালনা কমিটির শপথ গ্রহণ কৃষিপণ্য রপ্তানিতে নতুন দুয়ার খুলবে গাজীপুরের গামা সেন্টার একটি বিদ্যালয়, এক স্বপ্নদ্রষ্টার স্মৃতি—শ্রীপুরে শিক্ষানুরাগী শিরিনকে স্মরণ গাজীপুরে সেপটিক ট্যাংকের ওপর কক্ষ, বিস্ফোরণে প্রাণ গেল ভাড়াটিয়ার দামুড়হুদায় অবৈধ দুই ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

আধুনিক ইমারত ও গুদাম সংস্কৃতির যুগে বিলুপ্তির পথে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা। সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় একসময় বহুল প্রচলিত ধান সংরক্ষণের এই ঐতিহ্য এখন প্রায় হারিয়েই যেতে বসেছে।

কয়েক দশক আগেও গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি কৃষক পরিবারের বাড়িতে ধান সংরক্ষণের জন্য গোলা দেখা যেত। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই দৃশ্য এখন অনেকটাই স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে। মাঠজুড়ে ধানের আবাদ থাকলেও অধিকাংশ কৃষকের বাড়িতে আর দেখা মেলে না বাঁশ ও চাটাই দিয়ে তৈরি গোলাকৃতির ধানের গোলা। একসময় কন্যাপক্ষ বিয়ের আগে বরপক্ষের আর্থিক অবস্থা যাচাই করতে তাদের বাড়িতে ধানের গোলা আছে কি না, সেটিও খোঁজ নিত। এখন সেই প্রথা শুধুই অতীতের গল্প।

উপজেলার প্রবীণ বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন ও রহিমা খাতুনসহ অনেকেই জানান, আগে গ্রামাঞ্চলের বাড়িগুলোতে বাঁশ ও চটা দিয়ে তৈরি গোল আকৃতির ধানের গোলা উঁচু স্থানে বসানো হতো। গোলার ওপরে টিন বা খড়ের ছাউনি থাকত, যা পিরামিড আকৃতির টাওয়ারের মতো তৈরি করা হতো। গোলার ওপরে ছোট একটি প্রবেশমুখ রাখা হতো, যাতে সহজে চুরি করা না যায়। সেই পথ দিয়েই শুকনো ধান গোলার ভেতরে সংরক্ষণ করা হতো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বের করা হতো। তারা আরও জানান, একসময় বিভিন্ন এলাকায় ধানের গোলা তৈরির দক্ষ কারিগর ছিলেন। কিন্তু এখন গোলার ব্যবহার কমে যাওয়ায় সেই কারিগররাও পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্তমানে গোলা সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগর পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে যেসব পরিবারে এখনো ধানের গোলা রয়েছে, তাদের অনেকেই সেটিকে স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে রেখে দিয়েছেন। তবে অধিকাংশ পরিবারই পুরোনো গোলা ভেঙে ফেলেছে। এখন ধান সংরক্ষণ করা হয় পাকা গুদামঘরে বা বস্তাভর্তি করে বিক্রি করে দেওয়া হয় আড়তদারদের কাছে।

তবে অতীতের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের মোড়ল বাড়ির কয়েকজন কৃষক। গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, “আমার দাদা, বাবা ও চাচারা ধানের গোলায় ধান রাখতেন। এখন আর সেই প্রচলন নেই। তবুও আমরা ঐতিহ্যের স্মৃতি হিসেবে গোলাটি রেখে দিয়েছি। বর্তমানে ধান বস্তাভর্তি করে গুদামঘরে রাখা হয়।”

স্থানীয়দের মতে, আধুনিক গুদামঘর ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার প্রসারের কারণে ধানের গোলা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে গ্রামবাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে শুধুই স্মৃতিতে পরিণত হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun