উপকূলের পরিবেশগত সংকট নিরসন ও জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দসহ ২১ দফা দাবি জানিয়েছে ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম (সিএএফ) খুলনার জেলা কমিটি। একই সঙ্গে তারা জলবায়ূ খাতে গত ১০ বছরের জাতীয় বাজেটে বরাদ্দে উদ্বেগ প্রকাশ ও বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানান।
গতকাল মঙ্গলবার খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ূন কবির বালু মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের নেতারা এসব দাবি জানান। এতে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ফোরামের জেলা আহ্বায়ক সাংবাদিক কৌশিক দে।
সংবাদ সম্মেলনে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের জন্য ‘উপকূল উন্নয়ন বোর্ড’ গঠন, দক্ষিণ-পশ্চিম, মধ্য উপকূল ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের জন্য পৃথক দপ্তর সৃষ্টি, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা ও পটুয়াখালীসহ সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলকে জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা, জাতীয় বাজেটে আলাদা পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত, পরিবেশবান্ধব ইকোনমিক জোন গঠন, ব্লু-কার্বন সংরক্ষণ ও কার্বন-ক্রেডিট বিপণনের উদ্যোগ গ্রহণ, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সুপেয় পানি নিশ্চিত, সাইক্লোন শেল্টারগুলো সংস্কার করে নারী-শিশু প্রতিবন্ধী ও প্রবীণবান্ধব করে গড়ে তোলাসহ ২১ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জলবায়ূ ও পরিবেশ খাতে বরাদ্দ ছিল ২৮ হাজার কোটি টাকা। যা মোট বাজেটের ৮.২১ শতাংশ, ২০১৭-১৮ সালে ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৭.৫০ শতাংশ। এভাবে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বরাদ্দ ছিল ৪১ হাজার ২শ’ কোটি ও সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ৪১ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। যা মোট বাজেটের যথাক্রমে ৫.১৭ শতাংশ ও ৫.২১ শতাংশ। অর্থাৎ বাজেটের আকার বাড়লেও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ ও জলবায়ূ খাতে বরাদ্দের হার কমছে। তাই দেশের ১৯টি উপকূলীয় জেলার মানুষকে রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ, বাজেট বরাদ্দ করতে হবে। না হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফোরামের উপদেষ্টা ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তুহিন রায়, সদস্য সচিব সাংবাদিক উত্তম মন্ডল, কোস্টাল ভয়েস অব বাংলাদেশ (কব) সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা জামাল পপলু, ফোরাম সদস্য কাজী শামীম আহমেদ, আমিনুল ইসলাম, আনিসুর রহমান কবির, আয়শা আক্তার জ্যোতি, বেসরকারি সংস্থা লির্ডাসের টিম লিডার শারমিন আরা লিনা, প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিপ্লব কুন্ডু, অ্যাডভোকেসি অফিসার বিপাশা অধিকারি, প্রজেক্ট অফিসার ইভানা পারভীন প্রমুখ।