পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে চরম সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ঘটিয়ে জয়ী হয়েই এবার প্রকাশ্য বাংলাদেশবিরোধী নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার। কথিত ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে সাধারণ বাংলাভাষী মুসলমানদের দ্রুত পশ্চিমবঙ্গ ছাড়ার চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী ও কট্টর মুসলিমবিদ্বেষী নেতা শুভেন্দু অধিকারী। একই সাথে বাংলাদেশিদের পাকড়াও করতে ও পুশ-ব্যাক করার আগ পর্যন্ত খাঁচায় বন্দি করে রাখতে বিতর্কিত ‘আটক শিবির’ চালু করেছে তার প্রশাসন। দিল্লির প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী শুভেন্দুর এই প্রকাশ্য যুদ্ধংদেহী আচরণ দুই প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম ক্ষোভ ও অস্থিরতা তৈরি করেছে। ভারতের সরকারি সংবাদ সংস্থা পিটিআই ও দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার বরাতে বুধবার (২৭ মে) উগ্র হিন্দুত্ববাদী এই রাজ্য সরকারের চরম বাংলাদেশবিরোধী ও মুসলিম নিপীড়নমূলক সিদ্ধান্তের খবরটি সামনে এসেছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) নদীয়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে কল্যাণীতে এক বিশেষ প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ শুভেন্দু এ সময় চরম উগ্র ভাষায় দাবি করেন, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাকিমপুর চেকপয়েন্টে বিপুলসংখ্যক ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ জড়ো হয়েছেন। তিনি প্রশাসনকে আদেশ দেন তাদের যেন দ্রুত পুশ-ব্যাক করা হয়। বর্ডার সীমান্তে জড়ো হওয়া লোকজনকে টার্গেট করে ভারতের এই পুতুল মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত নিচু ভাষায় হিন্দিতে হুমকি দিয়ে বলেন, জলদি জলদি ভাগো, নেহি তো জো করনা হ্যায় সরকার করেগা। অর্থাৎ- তাড়াতাড়ি এই দেশ ছেড়ে পালাও, অন্যথায় সরকার যা করার তা-ই করবে। বিজেপির চিরচেনা মুসলিমবিদ্বেষী রাজনীতিকে উসকে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, আমরা এই অনুপ্রবেশকারীদের জেলে বসিয়ে খাওয়াতে চাই না বা তাদের পেছনে জনগণের ট্যাক্সের টাকা নষ্ট করতে চাই না। তারা ভারতীয়দের, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ক্ষতি করছে। বিগত দিনে ভোটব্যাংকের নোংরা রাজনীতির কারণে আইন কার্যকর করা হয়নি। কিন্তু আমরা ভোটব্যাংকের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও রাজ্যের স্বার্থে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন আইন পূর্ণাঙ্গ কার্যকর করব। উল্লেখ্য, ক্ষমতায় এসেই বিজেপি নেতা শুভেন্দু ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের চিরতরে উচ্ছেদ করতে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নামক এক বিপজ্জনক ফ্যাসিবাদী নীতি ঘোষণা করেছেন, যার মূল লক্ষ্য মূলত সীমান্ত অঞ্চলের নিরীহ বাংলাভাষী মুসলমানরা। আসামের মতো এবার পশ্চিমবঙ্গকেও মুসলিমদের জন্য উন্মুক্ত জেলখানা বানানোর মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে শুভেন্দু সরকার। পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের প্রতিটি জেলায় তথাকথিত প্রত্যর্পণ বা প্রত্যাবাসনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আটক বাংলাদেশি এবং কারামুক্ত বন্দিদের খাঁচায় বন্দি রাখার জন্য অস্থায়ী ‘আটক শিবির’ বা ‘আটককেন্দ্র’ স্থাপনের চূড়ান্ত নির্দেশনা জারি করেছে। ইতিমধ্যেই শুভেন্দুর এই ফ্যাসিবাদী নির্দেশ বাস্তবায়ন করে রাজ্যের প্রথম জেলা হিসেবে মালদায় একটি কুখ্যাত ‘আটক শিবির’ চালু করা হয়েছে। ইংলিশ বাজারের চন্দন পার্কে অবস্থিত এই অন্ধকার শিবিরে বর্তমানে নারী ও শিশুসহ ৯ জন সন্দেহভাজন নিরীহ বাংলাদেশিকে কড়া পাহারার মধ্যে গাজোলের পান্ডুয়া এলাকা থেকে এনে বন্দি করে রাখা হয়েছে।