1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, মাঠে ২১ ম্যাজিস্ট্রেট ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে: নবীন আনসার কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মহাপরিচালক জীবননগরের উথলীতে সন্ন্যাসী বাবার দরবার পরিচালনা কমিটির শপথ গ্রহণ কৃষিপণ্য রপ্তানিতে নতুন দুয়ার খুলবে গাজীপুরের গামা সেন্টার একটি বিদ্যালয়, এক স্বপ্নদ্রষ্টার স্মৃতি—শ্রীপুরে শিক্ষানুরাগী শিরিনকে স্মরণ গাজীপুরে সেপটিক ট্যাংকের ওপর কক্ষ, বিস্ফোরণে প্রাণ গেল ভাড়াটিয়ার দামুড়হুদায় অবৈধ দুই ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন জীবননগর থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান, ৪৬ বোতল এসকাফসহ যুবক আটক ‎‎‎ধামরাইয়ে পুকুর থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার সাভারে মেডিকেল অফিসারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন‎‎ ‎

তারাবুনিয়ার লিচু বাগান বদলে দিচ্ছে অনেকের জীবন

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬

গ্রামের নাম তারাবুনিয়া। পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার তালতলা নদীর তীরঘেঁষা এই গ্রামটিতে ঢুকলেই চোখে পড়ে লোভনীয় দৃশ্য।

গাছভর্তি টসটসে লাল লিচু। বাগানজুড়ে ব্যস্ত নারী-পুরুষ; কোথাও লিচু সংগ্রহ চলছে, কোথাও বাছাই। মৌসুমজুড়ে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা এই গ্রাম আশপাশের মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘লিচু গ্রাম’ নামে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় দুই যুগ ধরে তারাবুনিয়া গ্রামে লিচু চাষ হচ্ছে।

গ্রামের শতাধিক পরিবার কোনো না কোনোভাবে এই চাষের সঙ্গে যুক্ত। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছে ফলনও হয়েছে আশানুরূপ। বিষমুক্ত বা অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষ হওয়ায় তারাবুনিয়ার লিচুর ভালো চাহিদা রয়েছে বাজারে।

স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে এখানকার লিচু যাচ্ছে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, গোপালগঞ্জসহ আশপাশের অন্তত ২০ থেকে ২৫টি উপজেলায়।

প্রতিদিন পিরোজপুর শহর ও এর আশপাশের এলাকা থেকে পরিবার নিয়ে বাগান দেখতে আসছে অনেক মানুষ। গাছ থেকে নিজ হাতে লিচু সংগ্রহ করে কিনে বাড়ি ফিরছেন তারা।

বাগানে লিচু কিনতে আসা কয়েকজন পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, গত বছরের তুলনায় এবার ফলন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাইরের জেলাগুলোতেও যাচ্ছে এই লিচু। তারাবুনিয়ার সাফল্য দেখে আশপাশের গ্রামের কৃষকরাও এখন লিচু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নাজিরপুরে ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক লিচুবাগান রয়েছে। অধিকাংশ চাষি ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে বিভিন্ন জাতের লিচু চাষ করছেন। তবে এবারের মতো এত ভালো ফলন আগে হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তারাবুনিয়ায় লিচুচাষের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত হিমাংশু কুমার মিস্ত্রী। লিচুর পাশাপাশি আম ও বরই চাষ করেও তিনি এলাকায় সফল ফলচাষি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার দেখাদেখি অনেক শিক্ষিত তরুণ চাকরির পেছনে না ছুটে ফলচাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

হিমাংশু বলেন, বিভিন্ন চ্যানেল কৃষিবিষয়ক অনুষ্ঠান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে, প্রথমে এক একর জমিতে লিচুর বাগান করি। চার বছর পর গাছে ফল আসতে শুরু করে। পরে লাভের টাকা দিয়ে জমি বাড়িয়ে এখন পাঁচ একরে মুজাফফরী ও বোম্বাই জাতের লিচুর চাষ করছি। এতে এখন ভালো আয় হচ্ছে।

একই গ্রামের মনোজ সিকদার, গৌরাঙ্গ মণ্ডল, হারুনুর রশীদ, সমীর এদবর ও কমলেশ মল্লিকসহ অনেকেই এখন সফল লিচুচাষি।

সম্প্রতি সরেজমিনে তারাবুনিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় প্রত্যেক পরিবারই ছোট-বড় কোনো না কোনো লিচু বাগানের সঙ্গে জড়িত।

চাষি পরিমল বিশ্বাস বলেন, পাঁচ একরের বাগান থেকে খরচ বাদ দিয়ে এবার ভালো লাভ হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিবছর লিচু বিক্রি থেকে লাভের টাকা দিয়ে কিছু না কিছু জমি কিনছি। ফলচাষে ঝুঁকি রয়েছে, তবে গত ১৩-১৪ বছরে কখনো লোকসান হয়নি।

আরেক চাষি হারুনুর রশীদ বলেন, এক একর বাগান থেকে সব খরচ বাদ দিয়ে এবার দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা লাভের আশা করছি।

কমলেশ মল্লিক জানান, এক হাজার লিচু তিন হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তাঁর ভাষায়, এবার প্রায় সব চাষিই লাভবান হবেন।

একই বাগানে লিচু, আম, বরই ও মালটা
তারাবুনিয়ার বাগানগুলো ঘুরে দেখা যায়, একই জমিতে লিচুর পাশাপাশি আম, বরই ও মালটার চাষও করছেন কৃষকরা। বরই মৌসুম শেষ হওয়ার পর এখন চলছে লিচু সংগ্রহ। সামনে পাকবে আম, এরপর মালটা। ফলে বছরের প্রায় পুরো সময়ই কোনো না কোনো ফল থাকে বাগানে।

চাষি গৌরাঙ্গ মণ্ডল, সমীর এদবর, মনোজ সিকদার ও নিকুঞ্জ বড়াল জানান, ফলচাষ এখন তাদের প্রধান আয়ের উৎস।

নাজিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইশরাতুন্নেছা এশা বলেন, নাজিরপুরের লিচু চাষিরা শুধু জেলার নয়, বরিশাল বিভাগেরও সফল ও মডেল চাষি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তাদের উৎপাদিত উন্নত জাতের লিচু রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাগান পরিদর্শন, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, ফলচাষ লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এ অঞ্চলের কৃষকরা ফলজ বাগান গড়ে তুলতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun