1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
তৃণমূলের সম্পাদক অভিষেকের ওপর অতর্কিত হামলা, ডিম-জুতা নিক্ষেপ প্যারিসের নতুন মেয়রের সঙ্গে ড. ইউনূসের সাক্ষাৎ নাফ নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ জামায়াত-এনসিপির টাকা মানেই জান্নাতের টাকা! -রাশেদ খাঁন খুলনায় একটি ঘর থেকে নারী-শিশুসহ ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার ভারতে বেড়েছে কুইক কমার্সের ব্যবসা, তবে কি টিকে থাকতে পারবে মহাস্থানগড়ে সংরক্ষিত ৪৭ মূর্তি আসল নাকি রেপ্লিকা— যাচাইয়ে বিশেষজ্ঞ দল বিএনপি মজলুম থেকে জালিম হয়ে উঠেছে: শিবির সভাপতি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে দিল্লিতে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে যুবকের দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন, আহত ২

খাদ্য গুদাম সংস্কারের আড়ালে ভবনবিলাসের ছক, টার্গেট ৪৩১ কোটি 

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬

দেশের চার জেলায় বিভিন্ন খাদ্য গুদামের ধারণক্ষমতা বাড়াতে গুদাম সংস্কার ও মেরামতে নতুন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে খাদ্য অধিদপ্তর। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এসব গুদামে অতিরিক্ত ৬৫ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন খাদ্যের কার্যকর ধারণক্ষমতা বাড়বে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৩১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

এরই মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প প্রস্তাবনাও দেওয়া হয়েছে। তবে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে সংশোধনের জন্য প্রস্তাবনাটি ফেরত পাঠিয়েছে কমিশন। সম্প্রতি প্রস্তাবিত প্রকল্প নিয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় জানানো হয়েছে, প্রস্তাবনা থেকে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো যেন বাদ দেওয়া হয়। এমনকি প্রকল্প প্রস্তাবনায় অপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয় যুক্ত করায় পিইসি সভায় ‘অসন্তোষ’ জানিয়ে এসব প্রস্তাবকে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

মূলত, সরকারি কোষাগারের টাকায় ৬৫ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন খাদ্য কার্যকর ধারণক্ষমতা বাড়াতে ‘তিনটি সিএসডি (কেন্দ্রীয় সংরক্ষণাগার) ও একটি এলএসডি (স্থানীয় সংরক্ষণাগার) খাদ্য গুদাম ও আনুষঙ্গিক’ নামে এ প্রকল্প হাতে নিচ্ছে খাদ্য অধিদপ্তর।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটিতে আবাসিক, অনাবাসিক ভবন ও রেস্ট হাউজ নামে ভবন নির্মাণসহ নানান বিলাসী উপকরণ যুক্ত করা হয়েছে। যার মূল টার্গেট ৪৩১ কোটি টাকা অনুমোদন করে নেওয়া। প্রকল্পটি ‘খাদ্য গুদাম সংস্কার’ নামে হলেও প্রস্তাবনায় দেখা যায়, ভেতরে ভেতরে বিভিন্ন ভবন নির্মাণের ছক কষা হয়েছে।

খাদ্য গুদাম সংস্কারের কথা বলে প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ৬৩ শতাংশ ব্যয় ধরা হয়েছে আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন নির্মাণে। অথচ খাদ্য গুদাম সংস্কারে ব্যয় ধরা হয়েছে মোট ব্যয়ের মাত্র ১৮ শতাংশ। যেখানে প্রকল্পের মোট ব্যয় ৪৩১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

প্রকল্পের প্রস্তাবিত নামের সঙ্গে কার্যক্রমের কোনো সামঞ্জস্য নেই। প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে—খুলনা সিএসডি, তেজগাঁও সিএসডি, নারায়ণগঞ্জ সিএসডি এবং ধর্মপুর এলএসডির খাদ্য গুদামসমূহের ৬৫ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন কার্যকর ধারণক্ষমতা বাড়বে।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় নারায়ণগঞ্জ ও খুলনা সিএসডিতে ম্যানেজারের বাস ভবন, অ্যাসিস্টেন্ট ম্যানেজারের বাস ভবন ও রেস্ট হাউজ ভবন; তেজগাঁও সিএসডিতে ই-টাইপ স্টাফ কোয়ার্টার, বি-টাইপ কোয়ার্টার এবং ধর্মপুর এলএসডি এসএম বাস ভবন, স্টাফ কোয়ার্টার, দারোয়ান কোয়ার্টার ও রেস্ট হাউজ ভবন নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ, খুলনা ও ধর্মপুরে অফিস ভবন, গার্ড হাউজ, আনসার শেড ও লেবার শেড নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। 

প্রকল্পে ভবনবিলাসী উপকরণ যোগ হওয়ার সঙ্গে বেড়েছে ব্যয়ও। প্রকল্পের মোট ব্যয় ৪৩১ কোটি টাকার মধ্যে ভবন বিলাসেই ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৩ শতাংশ অর্থ। প্রকল্প প্রস্তাবনায় আবাসিক ভবন নির্মাণ খাতে ১৮৩ কোটি ১৪ লাখ ও অনাবাসিক ভবন নির্মাণ খাতে ১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পটিতে সরকারি অর্থায়ন মোট ৪৩১ কোটি ৭৫ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থায় সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রতা সাধন এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত অর্থের বিষয়টিও বিবেচনা জরুরি বলে দাবি কমিশনের।—বলছে পরিকল্পনা কমিশন 

নারায়ণগঞ্জ সিএসডিতে ম্যানেজারের বাস ভবন নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা, অ্যাসিস্টেন্ট ম্যানেজারের বাস ভবন নির্মাণের জন্য ৬৪ লাখ টাকা, রেস্ট হাউজ নির্মাণ বাবদ ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। খুলনা সিএসডিতে ম্যানেজারের বাস ভবন নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা, অ্যাসিস্টেন্ট ম্যানেজারের বাস ভবন নির্মাণের জন্য ৬৪ লাখ টাকা, রেস্ট হাউজ নির্মাণ বাবদ ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া, তেজগাঁও সিএসডিতে ই-টাইপ স্টাফ কোয়ার্টার বাবদ ৫৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ও বি-টাইপ কোয়ার্টার বাবদ ৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা এবং ধর্মপুর এলএসডি এসএম বাস ভবন নির্মাণের জন্য ৭৫ লাখ টাকা, স্টাফ কোয়ার্টারের জন্য ৮ কোটি ২২ লাখ টাকা, দারোয়ান কোয়ার্টার নির্মাণে ২ কোটি ৭ লাখ টাকা ও রেস্ট হাউজ নির্মাণ বাবদ ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে খাদ্য অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত প্রকল্প নিয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা করেছে পরিকল্পনা কমিশন। পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. মাহমুদুল হোসাইন খানের সভাপতিত্বে এ পিইসি সভা হয়। সভায় খাদ্য গুদামের কথা বলে ভবন নির্মাণে বেশি ব্যয় প্রস্তাবের নিয়ে প্রশ্ন উঠে। একই সঙ্গে প্রকল্পটি পুনর্গঠন করে ফের পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) মাহমুদুল হোসাইন খান জাগো নিউজকে বলেন, প্রকল্পের শুরুতে লেখা ‘খাদ্য গুদাম সংস্কার’। অথচ প্রকল্পের ভেতরে দেখা গেছে সবই ভবন নির্মাণের ছক। খাদ্য গুদাম সংস্কারের কথা বলে প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ৬৩ শতাংশ আবাসিক-অনাবাসিক নির্মাণ খাতে ব্যয় করা হবে। অথচ খাদ্য গুদামের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে মাত্র ১৮ শতাংশ। এটি প্রকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলো না।’

খাদ্য অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যমাত্রা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি বলে দাবি পরিকল্পনা কমিশনের। এছাড়া, প্রকল্পের আইটেমে লগ ফ্রেমের সঙ্গে প্রকল্পের উদ্দেশ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। চারটি জেলার একটি উপজেলা এবং তিনটি সিটি করপোরেশনে কতগুলো খাদ্য গুদাম (এলএসডি/সিএসডি) সংস্কার ও মেরামত এবং কতগুলো খাদ্য গুদাম পুননির্মাণ করা হবে, তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি বলেও জানায় কমিশন।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় ৫৩টি খাদ্য গুদাম সংস্কার বা মেরামত করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ৫০০ মেট্রিক টনের ১৬টি, ১০০০ মেট্রিক টনের ৩৬টি এবং ১৩০০ মেট্রিক টনের একটি খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা হবে। এ খাতে মোট ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ১৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

খাদ্য গুদাম মেরামত অংশে নারায়ণগঞ্জ সিএসডি স্থাপনায় ৫০০ মেট্রিক টনের ৯টিতে ২ কোটি ৮ লাখ টাকা, খুলনা সিএসডিতে ১০০০ মেট্রিক টনের ২৯টিতে ১২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা এবং তেজগাঁওয়ে ৫০০ মেট্রিক টনের ৭টি ও ১৩০০ মেট্রিক টনের একটিতে মোট ৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা সংস্থান রাখা হয়েছে। তবে প্রতিটির স্থাপনার নাম, কাজের বিবরণ, একক, পরিমাণ ও প্রাক্কলিত ব্যয় পৃথকভাবে তালিকা আকারে প্রকল্প প্রস্তাবনায় সংযোজন করা হয়নি।

অনাবাসিক ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রেও নারায়ণগঞ্জ, খুলনা ও ধর্মপুর সিএসডিতে অফিস ভবন, গার্ড হাউজ, আনসার শেড, মসজিদ এবং লেবার শেড নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রস্তাবিত নামের সঙ্গে প্রকল্প কার্যক্রমের সামঞ্জস্য নেই মর্মে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। এসব প্রকল্পে পরামর্শক সংস্থা নিয়োগ খাতে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৮ কোটি টাকা। অথচ পরামর্শক হিসেবে নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘শহীদুল কনসালটেন্ট লিমিটেড’ প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা জানুয়ারি ২০২২ সালে সম্পন্ন করেছে। কিন্তু সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ২০২২ সালে করা হলেও প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) ২০২৫ সালে অর্থাৎ চার বছর পর প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের শুরুতে লেখা ‘খাদ্য গুদাম সংস্কার’। অথচ প্রকল্পের ভেতরে দেখা গেছে সবই ভবন নির্মাণের ছক। খাদ্য গুদাম সংস্কারের কথা বলে প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ৬৩ শতাংশ আবাসিক-অনাবাসিক নির্মাণ খাতে ব্যয় করা হবে। অথচ খাদ্য গুদামের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে মাত্র ১৮ শতাংশ। এটি প্রকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলো না।—মাহমুদুল হোসাইন খান

পরিকল্পনা কমিশন বলছে, এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা দরকার। প্রকল্পটিতে সরকারি অর্থায়ন মোট ৪৩১ কোটি ৭৫ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থায় সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রতা সাধন এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত অর্থের বিষয়টিও বিবেচনা জরুরি বলে দাবি কমিশনের।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় যাতায়াত ভাতা খাতে ১৪ লাখ, বাড়ি ভাড়া ভাতা খাতে ৫০ লাখ ৩৪ হাজার, উৎসব ভাতা খাতে ১৬ লাখ ৩৮ হাজার, সম্মানী খাতে ১ লাখ ৬৯ হাজার, বিশেষ সুবিধা অংশে ১০ লাখ ৪২ হাজার, আপ্যায়ন ব্যয় খাতে ২৯ হাজার, ডাক খাতে ২ লাখ, প্রচার ও বিজ্ঞাপন অংশে ৯ লাখ, টেস্টিং ফি অংশে ৮ লাখ, ভ্রমণ ব্যয় অংশে ১১ লাখ, কম্পিউটার সামগ্রী অংশে ২ লাখ, স্ট্যাম্প ও সিল অংশে ৪ লাখ, অন্যান্য মনিহারি অংশে ১২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, সম্মানী অংশে ১৪ লাখ টাকা এবং কম্পিউটার মেরামত ও ফটোকপিয়ার মেরামত অংশে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে।

এসব অঙ্গসমূহের মধ্যে সম্মানী অঙ্গ দুবার উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু কী বাবদ সম্মানী তা বিস্তারিত উল্লেখ করা প্রয়োজন বলে পিইসি সভায় আলোচনা হয়। এছাড়া, এসব অঙ্গসমূহের ব্যয় যৌক্তিকভাবে কমানো জরুরি বলেও মনে করে কমিশন।

প্রকল্পে ভূমি উন্নয়ন খাতে ১৫ কোটি ১৬ লাখ ৫২ হাজার টাকা ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পে সিএসডি অনুযায়ী লাইন ও তারের ব্যয় এবং ভূমি উন্নয়ন ব্যয় উল্লেখ করা হলেও প্রতিটির স্থাপনা অনুযায়ী লাইন ও তার এবং ভূমি উন্নয়ন ব্যয়ের বিবরণ, একক, পরিমাণ ও প্রাক্কলিত ব্যয় পৃথকভাবে তালিকা আকারে ডিপিপিতে সংযোজন করা হয়নি।

এ বিষয়েও জানতে চেয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ৫ হাজার ৯০৪টি প্লাস্টিকের ডানেজ কেনায় ৪ কোটি ৭২ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাস্তবতার নিরীখে এর প্রয়োজনীয়তা এবং ব্যয় কমানোর ওপর জোর দিতে বলেছে কমিশন।

মূলধন খাতে ল্যাপটপ, কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানারসহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ সরবরাহ ও স্থাপন খাতে ৮ লাখ টাকা ও একই খাতে ৬০ মেট্রিক টন ক্ষমতাসম্পন্ন ওয়েব্রিজ ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ স্থাপন বাবদ ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং আসবাবপত্র খাতে ৮ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু এসব সরঞ্জামাদির প্রয়োজনীয়তা, সংখ্যা, একক, পরিমাণ এবং মূল্য পৃথকভাবে নির্ধারণ করা হয়নি।

এছাড়া, ৬০ মেট্রিক টন ক্ষমতাসম্পন্ন ওয়েব্রিজ ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ স্থাপন বাবদ প্রস্তাবিত ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা কী কী কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য ডিপিপিতে সংযোজন করা হয়নি

প্রস্তাবিত প্রকল্পে যানবাহন ভাড়া (আউট সোর্সিং) খাতে মাইক্রোবাস বাবদ ১ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। যেখানে একটি মাইক্রোবাস বাবদ মাসিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এটিকে অধিক ব্যয় মনে করছে কমিশনর। এছাড়া, গাড়ি চালকের বেতন, বাড়ি ভাড়া, প্রতি কিলোমিটারে জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, গাড়ি চালকের অতিরিক্ত কাজের ভাতা ও চালকের দৈনিক ভাতাসহ অন্য তথ্যাদি প্রকল্পে উল্লেখ করা হয়নি।

প্রকল্পের ফোকাল পয়েন্টে রয়েছেন খাদ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুরকৌশল- নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ইউনিট) মো. আব্দুল আলীম। তিনি মূলত ডিপিপি অনুমোদনের জন্য খাদ্য অধিদপ্তর থেকে পরিকল্পনা কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

খাদ্য গুদাম সংস্কারের চেয়ে ভবন নির্মাণে বেশি ব্যয় প্রস্তাব প্রসঙ্গে আব্দুল আলীম জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে। খরচের বিষয়গুলো দেখা হচ্ছে। আগের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) আমি করেনি। তবে আমাদের অনেক স্টাফ আবাসন দরকার। ব্যয় প্রস্তাবে নতুন করে খাদ্য গুদাম সংস্কারে মোট ব্যয় ১৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৫ শতাংশ হতে পারে।’

‘প্রকল্পটি নিয়ে পিইসি সভা হয়েছে। সভার কার্যবিবরণী হাতে পেয়েছি। এসব বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনে জবাব দেবো’—যোগ করেন আব্দুল আলীম।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun