কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অভিযান চালিয়ে ১১৬টি অবৈধ চায়না দুয়ারি (ম্যাজিক জাল) জাল জব্দ করেছে মৎস্য বিভাগ।
আজ রোববার জেলার ইটনা, সদর ও নিকলী উপজেলায় পৃথক এ অভিযান চালানো হয়।
জব্দকৃত জালের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ হাজার ২৮০ মিটার, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। পরে জব্দকৃত জালগুলো জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রোববার ইটনা উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে জিরোপয়েন্ট সংলগ্ন হাওরে অভিযান চালিয়ে ৫২টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। যার দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ৫৬০ মিটার এবং বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
একই দিন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের লাউয়াখালী বিল ও সংলগ্ন এলাকায় মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ২৪টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৭২০ মিটার এবং বাজারমূল্য প্রায় ৮৪ হাজার টাকা।
এছাড়া নিকলী উপজেলা মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে ছাতিরচর ও গুরুই ইউনিয়ন সংলগ্ন নয়ানবালি জলমহালে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৪০টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এসব জালের দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার মিটার এবং বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, চায়না দুয়ারি জাল অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি অবৈধ মৎস্য আহরণ উপকরণ। এ ধরনের সূক্ষ্ম ফাঁসের জালে মাছের পোনা, ডিম ও ছোট আকারের মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ে। ফলে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
তিনি আরও বলেন, হাওরাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অবৈধ জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। অভিযানের পাশাপাশি জেলে ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে চায়না জালের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হয়।