ক্রান্তীয় ঝড় ‘ক্রিস্টিনা’ উপকূলের দিকে ধেয়ে আসায় মধ্য আমেরিকার চারটি দেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। প্রবল বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় মঙ্গলবার নানা ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
মিয়ামিভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) মঙ্গলবার ভোরে জানায়, ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার বেগের স্থায়ী বাতাস নিয়ে ক্রিস্টিনা মধ্য আমেরিকার উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
সান সালভাদর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
এনএইচসি জানায়, ঘণ্টায় ছয় কিলোমিটার গতিতে উত্তরমুখী ঝড়টি বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত নিকারাগুয়া, হন্ডুরাস, এল সালভাদর ও গুয়াতেমালার উপকূলীয় এলাকায় ১০ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পরিমাণ ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এক বুলেটিনে এনএইচসি সতর্ক করে বলেছে, ‘এই বৃষ্টিপাত প্রাণঘাতী বন্যা ও ভূমিধসের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ি ও খাড়া ঢালবিশিষ্ট এলাকায় ঝুঁকি বেশি।’
সংস্থাটি আরও জানায়, উপকূলমুখী বাতাসের কারণে কিছু এলাকায় জলোচ্ছ্বাসজনিত উপকূলীয় প্লাবনও দেখা দিতে পারে।
ভূমিধস, বন্যা ও অন্যান্য ঝুঁকির কারণে এল সালভাদরের শিক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার ও বুধবার দেশের সব স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে।
রাজধানী সান সালভাদর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে লা লিবারতাদ এলাকায় জেলেদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। প্রবল ঢেউয়ে ওই বন্দর এলাকা উত্তাল হয়ে উঠেছে।
ক্রিস্টিনার আগমনের আগে সমুদ্রতীরবর্তী বেশ কিছু সংখ্যক দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ রয়েছে মাছ ও সামুদ্রিক খাদ্যের বাজারও।
এল সালভাদরের সিভিল প্রোটেকশন বিভাগের পরিচালক লুইস আলোনসো আমায়া জানান, আগামী তিন দিনে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় দেশজুড়ে ১৮০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে।
গুয়াতেমালার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির উপকূলীয় অঞ্চল, মধ্যাঞ্চলের আলতিপ্লানো এলাকা ও পূর্বাঞ্চলের উপত্যকাগুলোতে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
নিকারাগুয়ার কো-প্রেসিডেন্ট রোসারিও মুরিলো বাসিন্দাদের উপকূল থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, রোববার থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিপাত ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
হন্ডুরাসে জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দেশের নয়টি অঞ্চলে সতর্কতা জারি করেছে।
মধ্য আমেরিকা বিশ্বের সবচেয়ে ঘূর্ণিঝড়প্রবণ অঞ্চলগুলোর একটি।