জেলার কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল পূর্ব বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
আজ ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ধারণা, বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন একের পর এক দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভাতের হোটেল, মিষ্টির দোকান, সেলুন, ইলেকট্রনিকস, মনোহারী ও আসবাবপত্রের দোকানসহ মোট সাতটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হলেন, মাটির আসবাবপত্র ব্যবসায়ী লাল মোহন, সেলুন মালিক রতন দাস, মনোহারী দোকানদার রেজাউল করিম, মিষ্টি ব্যবসায়ী চাঁন মিয়া, ভাতের হোটেল মালিক লাল মিয়া, ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ী রিপন এবং মিষ্টি ব্যবসায়ী শাহজাহান।
খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর সবকিছু পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ভাতের হোটেল ও মিষ্টির দোকানের মালিক লাল মিয়া বলেন, আমাদের দুটি দোকান ছিল। প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ফ্যান, চাল, মিষ্টিসহ সবকিছু আগুনে পুড়ে গেছে। এখন আমরা সরকারি সহযোগিতা চাই। সরকারি সহযোগিতা ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়।
ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ী রিপন জানান, তার দোকানে কয়েক লাখ টাকার বৈদ্যুতিক পণ্য ছিল, যা আগুনে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
মনোহারী ও বিকাশ ব্যবসায়ী রেজাউল করিম বলেন, ‘বিকাশের টাকা, কার্ড ও দোকানের সব মালামাল পুড়ে গেছে। আমার প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে সাতটি দোকানে ৪০ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’
সেলুন ও আসবাবপত্র ব্যবসায়ী লাল মোহন বলেন, আমার প্রায় ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা নিম্ম আয়ের মানুষ, আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে কামারখন্দ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর ফরিদ উদ্দিন বলেন, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক ঘণ্টারও বেশি সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ তদন্ত শেষে নির্ধারণ করা হবে।