1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
গাজীপুরে সেপটিক ট্যাংকের ওপর কক্ষ, বিস্ফোরণে প্রাণ গেল ভাড়াটিয়ার দামুড়হুদায় অবৈধ দুই ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন জীবননগর থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান, ৪৬ বোতল এসকাফসহ যুবক আটক ‎‎‎ধামরাইয়ে পুকুর থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার সাভারে মেডিকেল অফিসারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন‎‎ ‎ যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকার ধামরাইয়ে সমাবেশ ও র‍্যালি‎ সাত দিনের মধ্যে পোশাকশিল্পের মজুরি বোর্ডের গেজেট: শ্রমমন্ত্রী পিংক সাইকেল চালিয়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কিশোরীদের উৎসাহ দিলেন গাজীপুরের ডিসি গাজীপুরে ঝুটের গোডাউনে আগুন, কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৪ ইউনিট বিদেশে কর্মসংস্থানে আস্থার সংকট কাটাতে কাজ করছে আনসার-ভিডিপি

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশব্যাপী ক্রিয়েটিভ হাবের পরিকল্পনা সরকারের

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) সৃজনশীল অর্থনীতির অবদান ১.৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং ৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশব্যাপী ‘ক্রিয়েটিভ হাব’বা সৃজনশীল কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার।

একই সঙ্গে ‘ওয়ান-ভিলেজ, ওয়ান-প্রোডাক্ট’ বা ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ উদ্যোগের আওতায় অঞ্চলভিত্তিক সৃজনশীল অর্থনৈতিক পণ্যের প্রসারের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। এতে সৃজনশীল অর্থনীতি খাতের উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাত থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের লক্ষ্য দেশের সৃজনশীল শিল্পখাতের বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে উন্মুক্ত করা এবং সেগুলোকে মূলধারার অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা।

তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি এই সম্ভাবনাময় খাতটি মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় ব্র্যান্ডিং এবং ভবিষ্যতের কল্যাণমুখী বিনিয়োগ হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

‘একগ্রাম, এক পণ্য’ উদ্যোগের আওতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী ও বৈচিত্র্যময় সৃজনশীল অর্থনৈতিক পণ্যগুলো চিহ্নিত ও প্রসারের পরিকল্পনা করেছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে তাঁত ও বয়ন শিল্প, মৃৎশিল্প, টেরাকোটা (পোড়ামাটির ফলক), শীতল পাটি, শতরঞ্জি ও কাঠের পুতুলের মতো ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প, হাতে তৈরি গহনা এবং অন্যান্য আঞ্চলিক বিশেষ পণ্য।

পণ্যের মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সরকার একটি ‘ন্যাশনাল পুল অব ডিজাইনার্স’ গঠন করবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) ডিজাইন সেন্টারকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আধুনিকায়ন করা হবে।

সৃজনশীল অর্থনীতির প্রসারে জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ স্থাপনকে অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে বাজেটে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই হাবগুলো একাধারে সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। এখানে থাকবে সাংস্কৃতিক ভেন্যু, পাঠ সুবিধাসহ বইয়ের দোকান, সিনেপ্লেক্স, ক্যাফেটেরিয়া এবং ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ কর্মসূচির আওতায় চিহ্নিত আঞ্চলিক পণ্যগুলোর প্রদর্শনী, প্রচার ও বিপণনের জন্য নির্ধারিত ব্যবস্থা।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আঞ্চলিক ক্রিয়েটিভ হাব বা সৃজনশীল কেন্দ্র গড়ে তুলতে একটি ১০ বছর মেয়াদি বিনিয়োগ কৌশল এবং সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি সম্ভাব্য স্থানে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে সরকার। এর মধ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে পূর্বাচলে ১৬০ একর জমির ওপর একটি বিশ্বমানের কেন্দ্রীয় ক্রিয়েটিভ হাব স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া কারওয়ান বাজার, তেজগাঁওয়ে সার্ভেয়ার জেনারেলের কার্যালয় সংলগ্ন অব্যবহৃত জমি এবং বিসিকের আওতাধীন খালি শিল্প প্লটগুলোতে এই হাব স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।

রাজধানীর বাইরেও এই সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রিয়েটিভ হাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি এবং শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণেও একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। বাজেট নথিতে বলা হয়েছে, দেশে একটি প্রাণবন্ত সৃজনশীল অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে এবং সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টিতে ক্রিয়েটিভ হাবের উন্নয়নকে অপরিহার্য মনে করে সরকার।

ক্রিয়েটিভ হাব কর্মসূচির পাশাপাশি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইতোমধ্যে ইনোভেশন হাব (উদ্ভাবন কেন্দ্র) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। দেশব্যাপী অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্নাতক পর্যায়ের কলেজগুলোতে এই সুবিধা সম্প্রসারণের জন্য একটি রোডম্যাপও তৈরি করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলোর লক্ষ্য সৃজনশীল অর্থনীতির পণ্যের উৎপাদন, প্রচার ও বিপণন জোরদার করার পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরি, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, সরকার বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজের সকল স্তরে অর্থনৈতিক সুযোগের গণতান্ত্রিকীকরণ করতে চায়।

তিনি বলেন, ‘আমরা সমাজে অর্থনৈতিক সুযোগের গণতন্ত্রীকরণ করতে চাই, যাতে জনমিতিক লভ্যাংশ ও দীর্ঘায়ুজনিত লভ্যাংশকে গণতান্ত্রিক লভ্যাংশে রূপান্তর করা যায়।’

দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপকল্পের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ, উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করার লক্ষ্য আমাদের।

সরকার আশা করছে, ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ কর্মসূচি, ক্রিয়েটিভ হাব, ইনোভেশন হাব এবং ডিজাইন সহায়তা উদ্যোগের সমন্বিত বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে সৃজনশীল অর্থনীতি খাতের অবদান বাড়বে। 

একই সঙ্গে এই খাতের মাধ্যমে ৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং জিডিপিতে এর অবদান ১.৫ শতাংশে উন্নীত হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun