বদলী খেলোয়াড় গনসালো রামোসের শেষ মুহূর্তের গোলে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে পরাজিত করে শেষ ষোলর টিকিট পেয়েছে পর্তুগাল।
পর্তুগাল তাদের এই জয় প্রয়াত সতীর্থ দিয়োগো জোতার প্রতি উৎস্বর্গ করেছে। জোতার জাতীয় দলের ২১ নম্বর জার্সিটি উঁচিয়ে ধরে পর্তুগাল শ্রদ্ধা জানায়। গত বছর এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় জোতার মৃত্যু হয়।
স্টপেজ টাইমের চতুর্থ মিনিটে রাফায়েল লিয়াওর দুর্দান্ত পাস থেকে রামোসের গোলে ক্রোয়েশিয়ার বিদায় নিশ্চিত হয়। অথচ টরেন্টোর ম্যাচের প্রায় বেশীরভাগ সময় আধিপত্য ছিল ক্রোয়েশিয়ার দখলে। ইনজুরি টাইমের একেবারে শেষ মুহূর্তে জাসকো গাভারডিওলের গোল ভিএআর অফসাইডের কারনে বাতিল করে দেয়।
এই সিদ্ধান্তে ক্রোয়েশিয়ানরা বিস্ময় প্রকাশ করে। তাদের সমর্থকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।
গাভারডিওলের গোল বাতিল হবার ঠিক আগ মুহূর্তে পর্তুগীজ বেঞ্চ ও কোচ রবার্তো মার্টিনেজ বারবার ম্যাচ অফিসিয়ালদেও কাছে শেষ বাঁশি বাজানোর আবেদন করেন।
পর্তুগালের এই জয়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ৫৩ মিনিটে ইভান পেরিসিচের গোলে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে রোনাল্ডোর পেনাল্টিতে সমতায় ফিরে পর্তুগাল। বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে এটাই রোনাল্ডোর প্রথম গোল। একইসাথে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশী বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে নক আউট পর্বে রোনাল্ডো গোলের রেকর্ড গড়লেন।
আগামী সোমবার ডালাসে শেষ ষোলর ম্যাচে স্পেনের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল।
ম্যাচ শেষে ক্রোয়েশিয়ান কিংবদন্তী ও দীর্ঘদিনের ক্লাব সতীর্থ লুকা মড্রিচের সাথে অনেক সময় ধরে কথা বলেছেন রোনাল্ডো। এই পরাজয়ে ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় মড্রিচের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ার প্রায় শেষই হয়ে গেল।
এই ম্যাচ আরও একদিক থেকে স্মরণীয় হয়ে থাকলো। ৪০ বছরের ওপরে বিশ্ব ফুটবলের দুই কিংবদন্তীর একসাথে প্রতিপক্ষ হিসেবে খেলার নজিড় খুব একটা নেই। সেদিক থেকে রোনাল্ডো-মড্রিচের এই দ্বৈরথ ম্যাচের আগে থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
প্রথমার্ধে কোন দলই তেমন এক সুযোগ তৈরী করতে পারেনি। গোলশুণ্য ড্র নিয়েই দুই দল বিরতিতে যায়। বিরতি থেকে ফিরেই ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে দেন পেরিসিচ। ৫৩ মিনিটে পর্তুগাল গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তাকে পরাস্ত করেন এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড। পরের মিনিটেই লম্বা একটি পাস নিয়ন্ত্রনে নিয়ে রোনাল্ডো বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারনে তা বাতিল হয়ে যায়।
কিন্তু সমতায় ফিরতে পর্তুগালকে খুব বেশীক্ষন অপেক্ষা করতে হয়নি। নিকোলা ভøাসিচ পেনাল্টি এরিয়ার মধ্যে রেনাটো ভেইগাকে ফাউল করে বসে। ভিএআর পরীক্ষার মাধ্যমে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। স্পট কিক থেকে রোনাল্ডো কোন ভুল করেননি।
ম্যানচেস্টার সিটি ফরোয়ার্ড মাতেও কোভাচিচের লো শট কোনমতে রক্ষা করেন কস্তা। পেটা সুসিচের গোলে সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা দেখান। ৮১ মিনিটে রোনাল্ডোর পরিবর্তে রুবেন নেভেসকে মাঠে নামানো হয়। মাঠে উপস্থিত উচ্ছসিত পর্তুগীজ সমর্থকরা এ সময় রোনাল্ডোকে দারুনভাবে অভিবাদন জানান। তখনও নিশ্চিত ছিলনা এটাই রোনাল্ডোর শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ হতে যাচ্ছে কিনা।
ক্রোয়েশিয়া একের পর এক সুযোগ তৈরী করতে থাকে। মারিও পাসালিচের হেড পোস্টে লেগে ফেরত আসে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রামোসের গোলে পুরো ক্রোয়েট শিবির নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে।