1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
‎গাজীপুর  কাশিমপুরে পুকুরে ডুবে মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু জীবননগর সীমান্তে নেশাজাতীয় সিরাপ ও গাঁজা জব্দ টেকসই কৃষি উন্নয়নে এলএসটিডি প্রকল্প: কক্সবাজারের রামুতে ৬৬ কৃষকের মাঝে আধুনিক কৃষি উপকরণ বিতরণ। বিআইডব্লিউটিএ এর আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে সরকারী অর্থ আত্মসাৎ দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার ও জেলা পরিষদের প্রশাসকের সঙ্গে হিজলগাড়ী প্রেসক্লাবের সৌজন্য সাক্ষাৎ জীবননগরের উথলীতে বিএনপির মতবিনিময় সভা গাজীপুরে হোটেলকর্মীকে মারধর করে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ নারীরা স্বাবলম্বী হলে সমাজ ও দেশ এগিয়ে যাবে : ডিসি ফরিদা জীবননগর সীমান্ত দিয়ে ৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি জীবননগরে ট্রান্সফরমার চুরি মামলার রহস্য উদঘাটন; আন্তঃজেলা চোরচক্রের ০৬(ছয়) সদস্য গ্রেফতার|| বিজ্ঞ আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান

মালয়েশিয়া শ্রমবাজার দুর্নীতি: রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকদের ব্যক্তিগত সম্পদ খতিয়ে দেখছে দুদক

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর নামে সরকার নির্ধারিত ফি’র কয়েকগুণ অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে করা মামলার আসামি ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দুদক। 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের ব্যক্তিগত সম্পদও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দুদক জানিয়েছে, শ্রমবাজারে দুর্নীতির অভিযোগে এখন পর্যন্ত ১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুদক। এসব মামলার অধিকতর তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত ২১৩ জনকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করেছে কমিশন। 

মামলাগুলোতে ১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সির আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ ৭ হাজার ৯৮৪ কোটি ১৫ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়।

দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-২ শাখার পরিচালক (বর্তমানে এলপিআররত) এস এম এম আখতার হামিদ ভূঞা স্বাক্ষরিত একটি পত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশপ্রাপ্তদের একজন প্রান্তিক ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরিজম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা। তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে নিজ নামে ও বেনামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি তাকে, তার স্ত্রী এবং তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে বা বেনামে অর্জিত সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা, আয়ের উৎস এবং সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ আদেশ প্রাপ্তির ২১ কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ফরমে কমিশনে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওই পত্রে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করলে অথবা মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন ধাপে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ১৯১ জনের কাছে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়েছে। আরও ২২ জনের কাছে নোটিশ জারির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এ পর্যন্ত নোটিশপ্রাপ্ত ১৬৭ জন কমিশনে তাদের সম্পদ বিবরণী জমা দিয়েছেন। এসব বিবরণী যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপ পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসকে বলেন, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়েছে। আরও কয়েকজনের নামে নোটিশ জারির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘যারা ইতোমধ্যে সম্পদ বিবরণী জমা দিয়েছেন, তাদের মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে। বাকিগুলোরও যাচাই-বাছাই চলছে। অনেক সম্পদ বিবরণীর বিষয়ে অধিকতর তদন্তের প্রস্তাব করা হয়েছে। আর যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী জমা দেবেন না, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আকতারুল ইসলাম বলেন, ‘যদি কারও দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীর সঙ্গে বাস্তব সম্পদের অসামঞ্জস্য পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা করা হবে। অপরাধের ধরণ অনুযায়ী কমিশন আদালতে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক বা অবরুদ্ধ করার আবেদনও করতে পারে।’

জালিয়াতির শীর্ষে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি-মন্ত্রীরা

মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর এবং রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের বিরুদ্ধে একটি ধাপে পৃথক ১২টি মামলা করেছে দুদক।

অভিযুক্তদের মধ্যে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল), সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য বেনজীর আহমদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুস সোবহান ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়, তারা পরস্পরের যোগসাজশে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ও বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং  এজেন্সির (বায়রা) নিবন্ধনের শর্ত লঙ্ঘন করে সরকার নির্ধারিত কর্মীপ্রতি ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার পরিবর্তে পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিমান টিকিট ও অন্যান্য খাতে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৪৯০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ  আদায় করে  তা আত্মসাৎ করেছে। 

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সাব-এজেন্ট, বিমানের টিকেট এবং অন্যান্য মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে আদায়কৃত অর্থ সরকার  নির্ধারিত ফি’র আওতার বাইরে ছিল। পরে ওই অর্থ বিভিন্ন উপায়ে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun