ইরানের অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতে শিগগির হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেন, তারা খুব দ্রুতই পিকঅ্যাক্সে সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে পারেন। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে তিনি দাবি করেন, পিকঅ্যাক্সসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে কারা চলাফেরা করছেন, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য রয়েছে।
আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার কাছে অবস্থিত এই পিকঅ্যাক্স পর্বতটি শত শত মিটার পুরু গ্রানাইটের নিচে দুটি টানেল কমপ্লেক্স নিয়ে গঠিত। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, সেখানে গোপন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চলছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, স্থাপনাটি মূলত উন্নত সেন্ট্রিফিউজ তৈরি ও সংযোজনের কাজে ব্যবহৃত হয়। গভীর ভূগর্ভে অবস্থানের কারণে এটি ধ্বংস করা বেশ চ্যালেঞ্জিং, আর ঠিক এই কারণেই স্থাপনাটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
চলমান উত্তেজনাকে বড় কোনো যুদ্ধ হিসেবে দেখতে নারাজ ট্রাম্প। তিনি একে ‘সামরিক সংঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি তাদের জন্য ছোটখাটো বিষয়। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র বিরতি দিয়ে দিয়ে ইরানে হামলা চালাচ্ছে। তবে বর্তমানে কোনো সরাসরি লড়াই চলছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করে যাচ্ছে।
ট্রাম্পের দাবি, হরমুজ প্রণালির সুরক্ষায় থাকা ইরানের রাডার, উড়োজাহাজ ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস করে দিয়েছে। এছাড়া মাইন অপসারণকারী জাহাজ ব্যবহার করে প্রণালিটির মাইনও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন। তার ভাষ্যমতে, এই পদক্ষেপের ফলে ইসরাইল ও পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন আগের চেয়ে বেশি সুরক্ষিত।
ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। সংঘাতের সময়সীমা নিয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের প্রধান লক্ষ্য অর্জন করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এখনই ইরান থেকে সরেও যায়, তবুও দেশটির ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে তেহরানের অন্তত ২৫ বছর সময় লেগে যাবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কারণ, তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে আপনারা হয়তো আর এখানে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারতেন না।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমরা ইতোমধ্যে সবচেয়ে বড় বিষয়টি অর্জন করেছি—ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।’।