আসন্ন ১৪৪৮ হিজরি সেশনে পবিত্র হজ পালনের লক্ষ্যে ইচ্ছুক নাগরিকদের জন্য আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিবন্ধনের সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে কাতারের আওকাফ ও ইসলামিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ২০ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলবে। আগ্রহী প্রার্থীরা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (hajj.gov.qa)-এর মাধ্যমে তাদের আবেদন জমা দিতে পারবেন।
হজ ও ওমরাহ বিষয়ক বিভাগের পরিচালক আলি সুলতান আল-মুসাইফ্রি এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিগত বছরগুলোতে আগাম নিবন্ধনের মাধ্যমে যে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে, তা এবারও বজায় রাখা হবে। এই প্রক্রিয়ার ফলে হজ পরিচালনাকারী কাফেলাগুলো তাদের চুক্তি ও অপারেশনাল প্রস্তুতি অনেক আগে থেকেই সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়, যা হজযাত্রীদের সেবার মান বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। সৌদি আরব সরকারের নির্ধারিত সময়সীমা ও কোটা বরাদ্দের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এই আগাম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আবেদনকারীদের জন্য আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে যারা ইতিপূর্বে কখনো হজ পালন করেননি, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তারা কেবল একজন সঙ্গী সাথে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়া, নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজতর করার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন নির্দেশিকা ও ডিজিটাল সচেতনতামূলক ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যা প্রার্থীদের সঠিক কাফেলা নির্বাচন ও ইলেকট্রনিক চুক্তি সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে।
হজযাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে এবার অনলাইন নিবন্ধন ব্যবস্থায় আরও নমনীয় ও ব্যবহারকারী-বান্ধব পেমেন্ট সিস্টেম যুক্ত করা হয়েছে। সফলভাবে নিবন্ধিত হওয়ার পর ইলেকট্রনিক সিস্টেমে একটি নির্দিষ্ট ডাউন পেমেন্ট বা অগ্রিম ফি প্রদান করতে হবে। এটি কোনো অতিরিক্ত রেজিস্ট্রেশন ফি নয়, বরং চূড়ান্ত চুক্তিমূল্যের অংশ হিসেবে গণ্য হবে। আবেদনকারীদের আন্তরিকতা ও গাম্ভীর্য নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যেকোনো জিজ্ঞাসা বা অভিযোগের জন্য অফিশিয়াল হটলাইন নম্বর ১৩২-এ যোগাযোগ করা যাবে।
নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরপরই ইলেকট্রনিক স্ক্রিনিং কার্যক্রম শুরু হবে। অক্টোবর মাসের শেষ দিক থেকে সফল আবেদনকারীদের মোবাইল নম্বরে এসএমএস-এর মাধ্যমে অনুমোদনের বার্তা পাঠানো হবে। এদিকে, কাতারি হজ মিশনের মেডিকেল ইউনিটের প্রধান ডা. হামাদ আল-রুহাইহি জানিয়েছেন, হজে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা অত্যন্ত জরুরি। দেশের যেকোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর এর ফলাফল ইলেকট্রনিক সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হজ ও ওমরাহ বিভাগের সাথে যুক্ত হয়ে যাবে। তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে হজ পালন নিশ্চিত করতেই এই মেডিকেল সার্টিফিকেটের কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: আবেদনকারীকে অবশ্যই ন্যূনতম ১৮ বছর বয়সী হতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কাতারে ২০২৭ সালের হজের মেডিকেল পরীক্ষা শুরু: বিনা মূল্যে সনদ পাবেন যারা।