1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পিংক সাইকেল চালিয়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কিশোরীদের উৎসাহ দিলেন গাজীপুরের ডিসি গাজীপুরে ঝুটের গোডাউনে আগুন, কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৪ ইউনিট বিদেশে কর্মসংস্থানে আস্থার সংকট কাটাতে কাজ করছে আনসার-ভিডিপি দামুড়হুদায় নারী সংক্রান্ত বিরোধে একজনকে কুপিয়ে জখম, ঘটনাস্থলে এএসপি-ওসি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ: স্পিন সামলানোর প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: নোট অব ডিসেন্টে পরিবর্তন চাইলে বৈঠকে আসতে হবে ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত হবে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল নতুন পোশাকে সাজছে পিআইএ: ৩১ অক্টোবর থেকে আকাশপথে যাত্রা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর আইন আসছে, অভিযোগ ছাড়াই ব্যবস্থা নেবে পুলিশ: আইজিপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি নিয়ে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিস্তারিত আলোচনা

বিদায় হজ বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে মহানবী (সা.)-এর ঘোষিত ১০ নীতি

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬

ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়েও বড় সাফল্য হলো একটি ন্যায়নিষ্ঠ ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠন করা। যেখানে মানুষের পরিচয় তার বংশ বা বর্ণে নয়, বরং তার কর্ম ও তাকওয়া বা চারিত্রিক শুদ্ধতায় নির্ধারিত হয়।

আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে বিদায় হজে মানবাধিকারের যে সনদ মহানবী (সা.) ঘোষণা করেছিলেন, তা আধুনিক সময়ের যে-কোনো মতবাদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর। একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়ার ১০টি বৈপ্লবিক নির্দেশনা তুলে ধরা হলো:

১. বর্ণবাদ ও বংশীয় আভিজাত্যের অবসান

সাফল্যের মানদণ্ড রক্ত বা বর্ণ নয়, বরং মানুষের আমল ও চরিত্র। বিদায় হজের ভাষণে নবীজি (সা.) বর্ণবাদের মূলে কুঠারাঘাত করেছিলেন।

রাসুল (সা.) বলেছেন, “কোনো আরবের ওপর কোনো অনারবের এবং কোনো অনারবের ওপর কোনো আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই; শ্রেষ্ঠত্ব শুধু তাকওয়ার (খোদাভীতি) ভিত্তিতে।” (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২২৯৭৮)

২. আইনের শাসনে আপসহীনতা

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ধনী-দরিদ্র বা আপন-পর ভেদাভেদ করা সাফল্যের অন্তরায়। নবীজি (সা.) তাঁর নিজের পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রেও আইনের সমান প্রয়োগের কথা বলতেন।

রাসুল (সা.) বলেছেন, “আল্লাহর কসম! যদি মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তবে আমি অবশ্যই তার হাত কেটে দিতাম।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৩০৪)

৩. নারীর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা

সাফল্য তখনই পূর্ণ হয় যখন সমাজের অর্ধেক অংশ—নারী জাতি তাদের প্রাপ্য অধিকার ও সম্মান পায়। নবীজি (সা.) নারীদের প্রতি কোমল হতে এবং তাদের হক আদায়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

রাসুল (সা.) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই শ্রেষ্ঠ, যে তার স্ত্রীর কাছে শ্রেষ্ঠ।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৮৯৫)

৪. শ্রমিকের মর্যাদা ও মানবিক ব্যবহার

সাফল্যের কারিগর হলো শ্রমিক। তাদের ওপর শারীরিক বা মানসিক চাপ দেওয়া এবং অধিকার হরণ করা বড় অপরাধ।

রাসুল (সা.) বলেছেন, “তোমাদের অধীনস্থরা তোমাদেরই ভাই। আল্লাহ তাদের তোমাদের অধীনে করে দিয়েছেন; সুতরাং যে তার নিজের ভাইয়ের ওপর কর্তৃত্ব লাভ করে, সে যেন তাকে তা-ই খাওয়ায় যা সে নিজে খায় এবং তা-ই পরায় যা সে নিজে পরে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩০)

৫. দুর্বল ও এতিমের সামাজিক সুরক্ষা

সমাজের অবহেলিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হলো প্রকৃত নেতৃত্বের সাফল্য। নবীজি (সা.) এতিমদের লালনপালনকারীদের জন্য সর্বোচ্চ জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন।

রাসুল (সা.) তাঁর তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল জোড়া করে বললেন, “আমি এবং এতিমের লালনপালনকারী জান্নাতে এভাবে থাকব।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৩০৪)

৬. অমুসলিমদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা

একটি সফল রাষ্ট্রের পরিচয় পাওয়া যায় তার সংখ্যালঘু বা অমুসলিম নাগরিকদের প্রতি আচরণের মাধ্যমে। নবীজি (সা.) মদিনা সনদে ধর্মীয় স্বাধীনতার পূর্ণ নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন।

রাসুল (সা.) বলেছেন, “সাবধান! যে ব্যক্তি কোনো অমুসলিম নাগরিকের ওপর জুলুম করবে বা তার অধিকার হরণ করবে… কেয়ামতের দিন আমি স্বয়ং তার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী হব।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩০৫২)

৭. বাকস্বাধীনতা ও সত্য প্রকাশ

ভুল ধরিয়ে দেওয়া এবং সত্য কথা বলার স্বাধীনতা সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি। নবীজি (সা.) জালিম শাসকের সামনে সত্য কথা বলাকে শ্রেষ্ঠ জিহাদ বলেছেন।

রাসুল (সা.) বলেছেন, “অত্যাচারী শাসকের সামনে সত্য কথা বলাই হলো সর্বোত্তম জিহাদ।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২১৭৪)

৮. গোপন তথ্য ফাঁস না করা (ব্যক্তিগত গোপনীয়তা)

কারো ব্যক্তিগত দোষ বা তথ্য তালাশ করা এবং তা প্রচার করা সামাজিক বিপর্যয়ের কারণ। সফল মানুষ সবসময় অন্যের সম্মান রক্ষা করেন।

রাসুল (সা.) বলেছেন, “তোমরা মানুষের ছিদ্রান্বেষণ (গোপন দোষ তালাশ) করো না।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০৬৪)

৯. দয়া ও বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্ব

সাফল্যের বিস্তার শুধু নিজের জাতির মধ্যে নয়, বরং সমস্ত সৃষ্টির প্রতি দয়ার মাধ্যমে হতে হবে।

রাসুল (সা.) বলেছেন, “জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করো, তবে আসমানে যিনি আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৯২৪)

১০. জীবনের নিরাপত্তা ও সম্পদের সুরক্ষা

মানবাধিকারের সবচেয়ে মৌলিক দিক হলো জান ও মালের নিরাপত্তা। নবীজি (সা.) অন্যের রক্তপাত ও সম্পদ লুণ্ঠনকে কঠোরভাবে হারাম ঘোষণা করেছেন।

বিদায় হজের ভাষণে নবীজি (সা.) বলেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত ও সম্পদ তোমাদের জন্য পবিত্র (হারাম), যেমন আজকের এই দিন ও এই মাস পবিত্র।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৭৪১):

রাসুল (সা.)-এর সাম্য ও ইনসাফের এই সূত্রগুলো শুধু প্রচারের জন্য ছিল না, বরং তিনি বাস্তব জীবনে এর প্রয়োগ ঘটিয়েছিলেন। একটি ইনসাফপূর্ণ পৃথিবী গড়তে হলে মানবাধিকারের এই ঐশী নীতিমালাগুলোর কোনো বিকল্প নেই।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun