ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে নিবিড় অনুশীলন শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। অনুশীলনের বড় একটি সময়জুড়ে ছিল স্পিনের বিপক্ষে প্রস্তুতি। দলের ব্যাটসম্যানরা নেটে স্পিনার নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলামের পাশাপাশি বিভিন্ন নেট বোলারদের ঘূর্ণি বল মোকাবিলায় দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছেন। নাজমুল হোসেন, মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক ও সাদমান ইসলাম পালাক্রমে এই স্পিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। উইকেট এবার যেমনই হোক, সাদমান ইসলামের দিকে দলের চোখ থাকবে নিশ্চিতভাবেই। সেঞ্চুরির পর ডাবল সেঞ্চুরির হাতছানি নাঈম–মাহফিজুলের।
প্রস্তুতির এই ধরণ থেকে স্পষ্ট যে, মিরপুরের উইকেট স্পিন-সহায়ক হতে পারে। যদি শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণি পিচেই খেলা হয়, তবে ব্যাটসম্যানদের স্পিন খেলার দক্ষতাই হয়ে উঠবে ম্যাচের নিয়ামক। দলের সংশ্লিষ্ট একজন উইকেট নিয়ে রহস্য বজায় রেখে জানিয়েছেন, উইকেটের প্রকৃত রূপ আপাতত অজানাই রাখা হচ্ছে। তবে স্পিন-ফাঁদে পড়ে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশ এবার কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। স্পিন বোঝার সেই চেষ্টায় তাঁদের সঙ্গী তখন পর্যন্ত জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল ও সহকারী কোচ মালিবঙ্গয়ে মাকেতা। রাতেই অবশ্য আশরাফুলকে ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নইলে ওপেনারদের তো আর স্পিনে মন দেওয়ার দরকার হয় না। শেষ পর্যন্ত মিরপুরে যদি বাংলাদেশ স্পিন–সহায়ক উইকেটে খেলে, তাহলে তো আর শুধু বোলারদের দিয়ে কাজ হবে না; ব্যাটসম্যানদেরও স্পিনটা খেলতে জানতে হবে। ঘরের মাঠে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের স্পিন–ফাঁদে পড়ে যাওয়ার অতীতের ঘটনা সেই ভয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত সাদা বলের ক্রিকেট থেকে একটু তাড়াহুড়া করেই নিয়ে আসা হয় তানজিদ হাসানকে। বাংলাদেশের হাতে অবশ্য বিকল্পও খুব একটা নেই।
ওপেনিং নিয়ে দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা এখনো পিছু ছাড়েনি বাংলাদেশের। গত দুই বছরে পাঁচজন ওপেনার পরখ করেও থিতু কাউকে পাওয়া যায়নি। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলতি চক্রে ১০ ইনিংসে সাদমান ইসলামের গড় মাত্র ২৪.১১ এবং ফিফটি রয়েছে কেবল একটি। যদিও তানজিদ হাসানের সঙ্গে তার জুটিতে কিছুটা উন্নতির ছাপ দেখা গেছে, তবুও মূল টেস্টে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। দুজনের মধ্যে সাদমানের জায়গাই কিছুটা নড়বড়ে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের স্বপ্নে বিভোর থাকা বাংলাদেশের জন্য এখন তাই তৃতীয় ওপেনারের জায়গাটা একরকম ফাঁকা।
পরিসংখ্যান বলছে, গত চার বছরে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে বাংলাদেশ শত রানের উদ্বোধনী জুটি পেয়েছে মাত্র একটি। ২০২২ সালে ভারতের বিপক্ষে চট্টগ্রামে নাজমুল হোসেন ও জাকির হাসানের করা সেই জুটির পর আর কোনো জুটিতে সেঞ্চুরি আসেনি। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক শ পেরোনো জুটির তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান সবার নিচে। যদিও আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তানজিদ ও সাদমান শত রানের জুটি গড়েছিলেন, কিন্তু সেটি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। কিন্তু অদলবদলেও শুরুর চিত্রটা বদলায়নি।
বিকল্প ওপেনার নিয়ে নির্বাচকদের মাথাব্যথাও কম নয়। দলে এই মুহূর্তে কোনো তৃতীয় ওপেনার নেই। সৌম্য সরকারকে বাদ দিয়ে ঘরোয়া লিগে রান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সম্ভাবনাময় ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম জাতীয় লিগে ৭ ইনিংসে তিন সেঞ্চুরি হাঁকালেও তার পারফরম্যান্সের মান নিয়ে নির্বাচকদের পুরোপুরি তৃপ্তি নেই। বিসিবি একাদশের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেও তিনি মাত্র ৪ রান করতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁকে নির্বাচকেরা জাতীয় লিগেই রান করতে দেখতে চান। সম্ভাব্য ওপেনার হিসেবে বিকল্প ভাবনায় আছেন মাহফিজুল ইসলামও।
সব মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে নতুন বলের পেস-সুইংয়ের পাশাপাশি স্পিন সামলানোর কঠিন পরীক্ষায় নামতে হচ্ছে টাইগারদের। টিম ম্যানেজমেন্টের এখন মূল চাওয়া, সাদমান ও তানজিদ জুটি যেন উইকেটে থিতু হয়ে লম্বা সময় ব্যাট করতে পারেন। ওপেনিংয়ের পুরনো এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠাই বাংলাদেশের বর্তমান লক্ষ্য। তবে সকালেও থ্রোয়ারের দায়িত্বটা একাই কাঁধে তুলে সাদমান ইসলামকে তিনি সুইপ আর রিভার্স সুইপ করতে দেন প্রায় আধা ঘণ্টা। নয়তো ওপেনিংয়ের এই দুশ্চিন্তাটা আরও বাড়বে।