ভারতের হরিয়ানার ঝাজ্জার জেলার একটি খামারবাড়িতে গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিয়ের জমকালো আসর বসেছিল। প্রায় ৫০০ অতিথির জন্য খাবারের আয়োজন করা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বর ও কনের স্বজনরা। তবে এই বিয়ের বিশেষত্ব ছিল বরের উপস্থিতি, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে কারাবন্দি। বিয়ের জন্য তিনি ১২ ঘণ্টার বিশেষ প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন। তবে অনুষ্ঠান শেষে রাত ৮টার মধ্যেই তাকে পুনরায় কারাগারের নির্ধারিত গণ্ডিতে ফিরে যেতে হয়। তবে বিয়ের পর নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরেননি বর।
কারাবন্দি এই বরের নাম ধিল্লা, যিনি ঝাজ্জারের বদলি গ্রামের বাসিন্দা। ২০০৭ সালে বাহাদুরগড়ে দায়ের হওয়া হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অবৈধ অস্ত্র ও ষড়যন্ত্রের মামলায় ২০১৩ সালের এপ্রিলে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হন। এছাড়া আরও দুটি মামলায় তার সাজা রয়েছে। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে হিসার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ছয় সপ্তাহের প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তিনি আর ফিরে আসেননি। কর্মকর্তাদের দাবি, ওই বছরের আগস্টে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে তিনি দেশত্যাগ করেন। এরপর ২০২৫ সালের জুলাই মাসে কম্বোডিয়ার কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করে। গত সেপ্টেম্বরে ভারতে হস্তান্তরের পর তিনি আবারও কারাবন্দি হন। বর মাইনপাল ধিল্লা (মাইনপাল বাদলি নামেও পরিচিত) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের প্যারোলে তিনি কারাগার থেকে বের হওয়ার সুযোগ পান। তার কনে কম্বোডিয়ার নাগরিক মেটা চানমিয়া।
জানা যায়, ২০১৮ সালে কম্বোডিয়ায় ধিল্লা ও কনের পরিচয় হয়। এরপর ২০২৫ সাল পর্যন্ত তারা সিয়েম রিপে একসঙ্গে বসবাস করেছেন। বিয়ে চলাকালীন অনুষ্ঠানস্থলের নিরাপত্তার দায়িত্ব ছিল পুলিশের কাঁধে। ঝাজ্জারের পুলিশ সুপার সিমারদীপ সিং জানান, প্যারোলের শর্ত মেনে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে নির্ধারিত সময়েই বরের কারাগারে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে চারপাশে কড়া নজরদারি ও পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছিল। প্রবেশকারীদের তল্লাশি করা হয় এবং অতিথি ও স্বজনদের চলাফেরায় নজর রাখা হয়। নিরাপত্তার কারণে সংবাদমাধ্যমকে ভেতরে যেতে দেওয়া হয়নি।