ইসরায়েলের সরকারি পাবলিক মানচিত্র সেবা গভম্যাপে সাময়িকভাবে গাজার উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশিত হওয়ার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত পুরো গাজা উপত্যকা, ইসরায়েল এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের সামরিক ঘাঁটি ও সংবেদনশীল স্থানগুলোর ছবি মানচিত্রে ঝাপসা বা অস্পষ্ট রাখা হয়। তবে গত সোমবার এই নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটে এবং উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া ও বেইত হানুনের বিভিন্ন এলাকার স্পষ্ট ছবি দেখা যায়। বিষয়টি প্রথম নজরে আসে গাজার ভৌগোলিক অবস্থান পর্যবেক্ষণকারী একটি এক্স অ্যাকাউন্টের। যদিও ছবিগুলো প্রকাশের পর কর্তৃপক্ষ পুনরায় মানচিত্রের ওই অংশগুলো অস্পষ্ট করে দেয়। ওই অ্যাকাউন্টটি গাজা উপত্যকার বিভিন্ন ঘটনার ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্ত করে থাকে। ফলে অল্প সময়ের জন্য স্পষ্ট ছবি প্রকাশ পাওয়ার ঘটনাটি ছিল ব্যতিক্রমী। আরেক এক্স ব্যবহারকারী ছবিগুলোর সংরক্ষিত সংস্করণ প্রকাশ করেন।
প্রকাশিত ছবিগুলোতে উত্তর গাজার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি অন্তত ১১টি ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনার অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা সামরিক বাফার জোনের ভেতরে অবস্থিত। যদিও ছবিগুলো ২০২৫ সালের হওয়ার কারণে সামরিক স্থাপনাগুলোর বর্তমান অবস্থা এতে প্রতিফলিত নাও হতে পারে। বেইত হানুনের বিভিন্ন এলাকায় পুরো ব্লক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার দৃশ্য এবং গাজা সিটির শুযাইয়া এলাকায় বিধ্বস্ত ভবন ও রাস্তাঘাটের চিত্রও এসব ছবিতে উঠে এসেছে। এছাড়া জাইতুন এলাকার দক্ষিণ-পূর্বে কার্নি ক্রসিং ও পূর্ব জাবালিয়ায় সামরিক যানবাহনের উপস্থিতি ও মাটির প্রতিবন্ধক দেখা গেছে। বিভিন্ন উৎস থেকে এসব ছবির সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করা হলেও তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, তারা ছবিগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
আলাদা এক প্রতিবেদনে সিবিসি নিউজ জানিয়েছে, স্যাটেলাইট চিত্রে গাজার বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির চিত্র পাওয়া গেছে। ফোরেনসিক আর্কিটেকচারের গবেষক জুলিয়া নুয়েনো গিতার্তের তথ্য অনুযায়ী, তাদের সংগ্রহে থাকা তথ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ার অন্তত ৪৩টি ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভাষ্য হলো, সেনাদের ঝুঁকি হ্রাস ও সামরিক প্রয়োজনে গাজায় ধ্বংসস্তূপ সরানো ও স্থাপনা তৈরির কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই সমস্ত কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন ও সুনির্দিষ্ট সামরিক নির্দেশনা মেনে সম্পন্ন করা হচ্ছে।