ঢাকার ইসিবি চত্বর এলাকায় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় শুধু বাংলাদেশেই নয়, ওপার বাংলাতেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ ঘটনায় ভারতের কলকাতার সাংবাদিক ও রিপাবলিক বাংলার সাবেক উপস্থাপক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষের একটি মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ময়ূখ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে সালমানের স্টুডিওটির সেট ডিজাইনের প্রশংসা করে লেখেন, এটি ঢাকায় না হয়ে কলকাতায় হলে তিনি নিজেই ভাড়া নিতেন। তবে তিনি এই হামলার দায় সরাসরি ‘মৌলবাদীদের’ ওপর চাপিয়েছেন। পোস্টে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সিরিয়া বা লিবিয়া নয়, মাত্র ৪০০ কিলোমিটার দূরের ঢাকায় এমন ঘটনা ঘটায় তিনি ভীত। কলকাতায় এ ধরনের ‘মৌলবাদীদের’ সংখ্যা বাড়লে ভবিষ্যতে সেখানেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং সালমানকে শক্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিয়েটর সমাজকে মুখ খোলার আহ্বান জানান।
বস্তুত, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দাবিতে বাংলাদেশে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, সালমান মুক্তাদির ছিলেন সেই আন্দোলনের একজন সক্রিয় সমর্থক। অন্যদিকে, ময়ূখ রঞ্জন ঘোষকে সেই সময় এই অভ্যুত্থানের বিরোধী অবস্থানে দেখা গিয়েছিল। সমালোচকরা মনে করছেন, পূর্বের সেই মতাদর্শিক বিরোধ থেকেই ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ প্রকৃত সত্য গোপন করে এই ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। বর্তমানে ভারতে বিদ্যমান রাজনৈতিক সমীকরণ ও হিন্দু মৌলবাদীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে নীরব থেকে বাংলাদেশের একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধকে কেন্দ্র করে এমন মন্তব্য করায় তার সাংবাদিকতার নিরপেক্ষতা নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় মহল থেকে দাবি উঠেছে, ঘটনা না জেনে কোনো সাংবাদিকের এমন মন্তব্য বিভ্রান্তিকর এবং এটি প্রতিবেশী দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল। প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করার বদলে ধর্মীয় মোড়ক দিয়ে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার এই প্রচেষ্টাকে অনাকাঙ্ক্ষিত হিসেবেই দেখছে সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল।