বাংলাদেশ ও চীনের ইউনান প্রদেশের মধ্যে সরাসরি কার্গো বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল এবং চীনের ইউনান প্রদেশের এক্সিকিউটিভ ভাইস গভর্নর ঝাও জুনমিনের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল অংশ নেন। উভয় পক্ষই পণ্য পরিবহনে আকাশপথের সুবিধা সম্প্রসারণে পারস্পরিক আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বৈঠকে মূলত বাংলাদেশের পণ্য চীনের বাজারে আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী, হিমায়িত মাছ এবং কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চালু হলে হিমায়িত মাছ ও অন্যান্য পচনশীল কৃষিপণ্য সঠিক মান বজায় রেখে কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে, যা বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বাজারে প্রবেশের পথ সুগম করবে।
বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের অংশ হিসেবে আমদানি খাতেও নতুন সুযোগ তৈরির প্রস্তাব এসেছে। ইউনান প্রদেশ থেকে বাংলাদেশে ফুল, উন্নত মানের সার এবং পশুখাদ্য আমদানির বিষয়টি আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আকাশপথে এসব পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হলে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে এবং সময় সাশ্রয় হবে। এতে দীর্ঘ সময়ের পরিবহন জটিলতা এড়িয়ে দ্রুত পণ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বৈঠকে উপস্থিত নীতিনির্ধারকরা অভিমত দেন যে, সরাসরি বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধি পাবে। এটি কেবল বাণিজ্য সম্প্রসারণ নয়, বরং নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা উন্মোচনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পচনশীল ও উচ্চমূল্যের পণ্য দ্রুত চীনের বাজারে রপ্তানির লক্ষ্যে এই সরাসরি কার্গো ফ্লাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্টরা।