হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক যাত্রীর ফেলে যাওয়া প্রায় ৪ লাখ টাকা মূল্যের মালামাল অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছেন দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি ব্যাগ দেখতে পান নিরাপত্তায় নিয়োজিত তিন আনসার সদস্য—এপিসি মো. গোলাম রব্বানী, এপিসি মো. ইমান আলী এবং এপিসি মো. সাহেব আলী। সকাল আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটে তারা সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ব্যাগটি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তল্লাশি চালিয়ে তারা দুটি ল্যাপটপ, একটি পাসপোর্ট এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পান। পাসপোর্টের তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, ব্যাগের মালিক মো. রাকিবুল ইসলাম, যিনি চীন থেকে বিজি-৩৬৭ ফ্লাইটে ঢাকায় এসেছেন। বিষয়টি সাথে সাথে শিফট ইনচার্জ পিসি মো. নিজাম উদ্দিনকে জানানো হয়। এরপর আনসার বাহিনীর পক্ষ থেকে মাইকিং এবং মোবাইল ফোনে যাত্রীর সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে দ্রুত তাকে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আনসার সদস্যরা পাসপোর্টে থাকা তথ্য যাচাই করে জানতে পারেন, ব্যাগটি চীন থেকে বিজি-৩৬৭ ফ্লাইটে আসা যাত্রী মো. রাকিবুল ইসলামের।
সংবাদ পেয়ে রাকিবুল ইসলাম দ্রুত ক্যানোপি-২ এলাকায় উপস্থিত হন এবং তাকে সিকিউরিটি অফিসারের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যথাযথ পরিচয়পত্র ও নথিপত্র যাচাই শেষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উদ্ধার হওয়া ব্যাগ ও সামগ্রীগুলো তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। নিজের হারানো ল্যাপটপ, পাসপোর্ট ও অন্যান্য জরুরি কাগজপত্র অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন রাকিবুল ইসলাম। এ সময় তিনি দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের সততা ও দায়িত্বশীলতার ভূয়সী প্রশংসা করে তাদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যাত্রীদের হারিয়ে যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে পৌঁছে দেওয়া আনসার বাহিনীর নিয়মিত কাজের অংশ। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এমন মানবিক উদ্যোগ সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপত্তাবাহিনীর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় করছে। সততা ও পেশাদারিত্বের এই দৃষ্টান্ত বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তার মান ও জনসেবার অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।