1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ন

সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তন আনলে গণভোটের বাধ্যবাধকতা

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংবিধানের মৌলিক কোনো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আইনানুযায়ী আবারও গণভোট বা রেফারেন্ডামের প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির নেতৃবৃন্দ। রোববার জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে দেশের প্রায় ৫০ জন শীর্ষস্থানীয় সম্পাদক এবং সাংবাদিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় এই আলোচনা উঠে আসে। দুই ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এই সভার পর এক সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ জানান, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সভায় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সম্পন্ন করার দাবি জানান। একটা হচ্ছে সাংবিধানিক গণভোট, আরেকটা হচ্ছে আইনের গণভোট। এই আইন সভায় গ্রহণ করতে হবে, এরপরে সেটা কনস্টিটিউশনে প্রপারলি আসবে।

সংবাদ সম্মেলনে সালাউদ্দিন আহমদ ব্যাখ্যা করেন যে, গণভোট সাধারণত দুই ধরনের হয়। এর মধ্যে সাংবিধানিক গণভোটের বিষয়টি সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে আগে থেকেই ছিল, যা পরবর্তীতে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছিল। তবে ৫ আগস্ট ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে এই অনুচ্ছেদটি পুনর্বহালের নির্দেশ এসেছে। সরকার সেই চেতনাকে সম্মান জানিয়েই এগোচ্ছে। তিনি জানান, সংবিধানে এমন কোনো পরিবর্তন আনা হলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগেই তা গণভোটের জন্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির মতো বিষয়গুলোতে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে জানানো হয়। সংবিধানের গণভোটের বাইরে যে আইনি গণভোট হতে পারবে না এরকম কোন বিধান সংবিধানে নাই। আওয়ামী লীগের সময় পঞ্চদশ সংশোধনীতে সেটা উড়িয়ে দিয়েছে। বাট, এটা ৫ই আগস্টের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের পরে সুপ্রিম কোর্টে একটা ভার্ডিক্ট হয়েছে ফিফটিনথ অ্যামেন্ডমেন্ট যেটা রিপিল করার জন্য চ্যালেঞ্জ করে যে রিটটা হয়েছে সেখানে জাজমেন্ট এসেছে যে আর্টিকেল ১৪২-এর যে গণভোট সেটা পুনর্বহাল করা হলো।

বৈঠকে উপস্থিত সাংবাদিক নেতারা সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরলে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, কমিটিতে বিরোধী দলকে বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং এখনো তা অব্যাহত রয়েছে। তারা যোগ দিলে সবার মতামতের ভিত্তিতে সর্বসম্মত রিপোর্ট প্রণয়ন সহজ হতো। কমিটির লক্ষ্য হলো আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসের সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবটি উত্থাপন করা এবং তা পাশ করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিরোধী দল সংসদে এ বিষয়ে গঠনমূলক সহযোগিতা করবে। কোন বিষয়ে আইন প্রণীত হলো, সেই হিসেবে জনগণের গণভোটের আহ্বান করা যায়।

গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের পক্ষে দৈনিক দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি জানান, সংবিধান সংশোধনের পুরো বিষয়টি জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে হওয়া জরুরি। তিনি বলেন, অতীতে প্রধানমন্ত্রীকে অবারিত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, যা রাষ্ট্রের জন্য সুফল বয়ে আনেনি। এই ক্ষমতা কমিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ভারসাম্য আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরায় সংবিধানে এমন কঠোরভাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে তা আর কেউ বাতিল করতে না পারে। তিনি আরও বলেন, ঐকমত্য কমিশনে বিএনপির পক্ষ থেকে আমি একটা প্রস্তাব করেছিলাম- আরো দুইটা অনুচ্ছেদ যুক্ত করতে হবে।

বৈঠকে সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের সাথে হওয়া গণভোটের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে জানানো হয়, ওই ভোটটি মূলত ছিল প্রক্রিয়াগত। সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের বৈষম্য দূর করে স্বচ্ছতা আনার বিষয়েও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, জয়নুল আবেদীন, মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমীন, সাকিলা ফারজানা এবং মো. মাহমুদুল হক রুবেল।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun