1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন

ব্যাংক খাত সংস্কারে ১২৭৬ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দেশের আর্থিক খাতের অব্যবস্থাপনা দূর করতে ও ব্যাংকগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে সরকার একটি নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ (এফএসএসপি-২) শিরোনামের এই প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা। প্রকল্পটির অনুমোদনের জন্য আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের কথা রয়েছে। সভায় অনুমোদনের জন্য মোট ১৫টি প্রকল্প কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রকল্পটির অর্থায়নের বড় অংশ আসছে বিশ্বব্যাংক থেকে। সংস্থাটির আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) ১ হাজার ২৬১ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে প্রদান করবে। অবশিষ্ট ১৪ কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেবে। চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদে এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে।

দীর্ঘদিন ধরে দেশের ব্যাংক খাত উচ্চ খেলাপি ঋণ, সুশাসনের অভাব এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতায় ভুগছে। বেশ কিছু সরকারি ও ইসলামি ব্যাংক বর্তমানে তারল্য ও মূলধনসংকটের মুখে রয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাংকিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং আর্থিক সুরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করা অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে। আগের ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্টের ধারাবাহিকতায় সরকার দ্বিতীয় পর্যায়ের এই উদ্যোগ নিয়েছে।

পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার জানান, ব্যাংক খাতের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং ক্রয় কার্যক্রম আধুনিকায়নের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এর আওতায় নীতিগত পর্যায়ে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমও বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থাৎ নির্ধারিত কার্যক্রম ও ফলাফলের ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় মূলত তিনটি ধাপে কাজ করা হবে। প্রথম ধাপে ব্যাংক খাতের তদারকি সক্ষমতা ও আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংস্কার, ব্যাংক পুনর্গঠন এবং আর্থিক সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করা হবে। তৃতীয় ধাপে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমানত বিমা তহবিলের (ডিআইটিএফ) আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো হবে, যাতে ব্যাংক পুনর্গঠন বা অবসায়নের সময় আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। অন্যদিকে পুরোনো আইসিটি অবকাঠামো ও সমন্বিত তথ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে ব্যাংক খাতের তদারকি কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। সাইবার হামলা ও আন্তসীমান্ত আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলার ক্ষেত্রেও এসব সীমাবদ্ধতা চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয়ের বড় একটি অংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৭১১ কোটি টাকা আইসিটি সরঞ্জাম কেনার জন্য এবং ৩৫৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা সফটওয়্যার ক্রয়ের জন্য নির্ধারিত হয়েছে। এছাড়া ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ হাজার ৫৬৫ জন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরামর্শক সেবার ক্ষেত্রে ব্যক্তি পর্যায়ে ২৯ কোটি এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সেবায় ৬৫ কোটি টাকা খরচের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রশিক্ষণ, পরামর্শক নিয়োগ, ডেটাবেজ ও অন্যান্য প্রযুক্তিসামগ্রী কেনার জন্যও অর্থ রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাংক খাতের ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধু প্রযুক্তি কিনলেই সমস্যার সমাধান হবে না; এর কার্যকর ব্যবহারের জন্য দক্ষ জনবল তৈরি করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে প্রথম পর্যায়ের ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট অনুমোদিত হয়। ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত বাস্তবায়িত ওই প্রকল্পের প্রাথমিক বাজেট ৩০০ মিলিয়ন ডলার থাকলেও, প্রকৃত ব্যয় হয়েছিল ২৬২ মিলিয়ন ডলার। ওই প্রকল্পে আর্থিক খাতের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নসহ প্রধান তিনটি কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল। এগুলো হলো আর্থিক খাতের ডিজিটাল অবকাঠামো, ব্যাসেল কোর মূলনীতি (প্রিন্সিপালস) অনুসরণ করে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun