হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ কচ্ছপ পাচারের সময় মো. শহীদুল ইসলাম (৫৭) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি যৌথ দল। গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এক বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। টাঙ্গাইলের হোসনাবাদ ও মাহমুদনগর এলাকার বাসিন্দা শহীদুল বাটিক এয়ারের ওডি১৬১ ফ্লাইটে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় তার ব্যাগ তল্লাশি করে ১ হাজার ১৬৩টি কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং কচ্ছপগুলো জব্দ করা হয়।
অভিযানটিতে বন অধিদপ্তরের আগারগাঁও কার্যালয়, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিভাগ, বিমানবন্দর পুলিশ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী পাচার ঠেকাতে বর্তমানে বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রী ও কার্গো তল্লাশিতে নজরদারি ও কড়াকড়ি আরও বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০২৬ লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ কারণে বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের লাগেজ, কার্গো এবং অন্যান্য পণ্যের ওপর নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উদ্ধার করা কচ্ছপগুলোর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার পর সেগুলোকে দ্রুত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। বিপুল সংখ্যক বন্যপ্রাণী একসঙ্গে পাচারের এই ঘটনাটি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক রুটে বন্যপ্রাণী চোরাচালান বন্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি যাত্রী পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। কচ্ছপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী অবৈধভাবে বিদেশে পাচারের চেষ্টা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে।
বিমানবন্দর ব্যবহার করে অবৈধ বন্যপ্রাণী পাচারের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সন্দেহভাজন যাত্রী ও মালামালের ওপর সার্বক্ষণিক বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। রোববারের এই অভিযানটি সেই নিয়মিত নজরদারির অংশ। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এবং বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা বলছেন, পাচারের সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্ক খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত থাকবে।