রাজনৈতিক ও পেশিশক্তির দাপটে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভূমি, বাড়ি ও খাসজমি দখলের পাশাপাশি হামলা এবং চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ৩৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তাঁদের ভাষ্যমতে, সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের ঘটনার ব্যাপকতা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। গণমাধ্যমে আসা বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেশের নানা জেলায় খাসজমি ও চর থেকে ভূমিহীনদের উচ্ছেদ এবং বাড়িঘরে হামলার চিত্র উঠে এসেছে।
রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর এলাকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনাকে তাঁরা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় কয়েক শ মানুষের হামলা, ভাঙচুর ও জমি দখলের অভিযোগ এবং সেখানে নগদ টাকা ও জমির দলিলসহ মূল্যবান সম্পদ লুটের বিষয়টিও বিবৃতিতে উঠে এসেছে। এছাড়া ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনাও তাঁরা উল্লেখ করেছেন।
বিবৃতিদাতারা পটুয়াখালীর চরবাংলা, নোয়াখালীর সদর উপজেলার ভাটিরটেক ও চরফ্যাশন এবং ভোলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ভূমিহীনদের জমি থেকে উচ্ছেদ ও ফসল লুটের অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে ছিনতাইয়ের ঘটনা বৃদ্ধি এবং শিশু ও নারীদের ওপর সহিংসতার বিষয়টিও তাঁদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে কিছু এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা আরও প্রকট হয়েছে। জমিতে থাকা ফসলও তারা রাতের অন্ধকারে লুট করে নিয়ে যায়। এ ছাড়া ছিনতাইয়ের ঘটনা ঢাকা মহানগরসহ সব বড়-ছোট শহরে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে শিশুধর্ষণ ও নারীবিরোধী সহিংসতা।
বিশিষ্ট নাগরিকদের মতে, এসব ঘটনা কেবল সাধারণ সন্ত্রাসী কার্যক্রম নয়; এর নেপথ্যে শাসক দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী মহল, পতিত সরকারের সশস্ত্র অনুসারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাংশের সরাসরি যোগসাজশ রয়েছে। অবিলম্বে নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তি, গোষ্ঠী এবং তাদের মদদদাতাদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁরা বলেন, জনমনের দৃঢ় বিশ্বাস এই সব ঘটনা শুধু সন্ত্রাসী কার্যক্রমই নয়।
অভিযোগ রয়েছে যে, অনেক ক্ষেত্রে শাসক দলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা থাকায় পুলিশ যথাযথ সময়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারছে না। বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতির দায় কেবল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নয়, বরং সামগ্রিকভাবে সরকারের জবাবদিহিতার বিষয়টি সামনে আসে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী বিশিষ্টজনদের মধ্যে রয়েছেন সুলতানা কামাল, আনু মুহাম্মদ, খুশী কবির, শিরীন পারভিন হক, ইফতেখারুজ্জামান, আবু সাঈদ খান, জেড আই খান পান্না, সারা হোসেন, শাহীন আনাম, শহিদুল আলম, স্বপন আদনান, শামসুল হুদা, সামিনা লুৎফা, সুমাইয়া খায়ের, গীতি আরা নাসরীন, জোবাইদা নাসরীন, তাসনিম সিরাজ মাহবুব, নোভা আহমেদ, ফিরদৌস আজিম, রেহনুমা আহমেদ, সাঈদ ফেরদৌস, সুব্রত চৌধুরী, নায়লা খান, মো. নূর খান, পাভেল পার্থ, ঈশিতা দস্তিদার, মনিন্দ্র কুমার নাথ, রোজিনা বেগম, জাকির হোসেন, সাইদুর রহমান, সালেহ আহমেদ, রেজাউল করিম চৌধুরী, শাহেদ কায়েস, মিঠুন রাকসাম, সাঈদ আহমেদ, দীপায়ন খীসা, হানা শামস আহমেদ ও মুক্তাশ্রী চাকমা।