বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ধারা ইতিবাচক রয়েছে। সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ মোট ৩৯৩ কোটি ৭২ লাখ ৩০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮.৫৪ শতাংশ বেশি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৬২ কোটি ৭৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সাম্প্রতিক তথ্য প্রকাশ করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে মোট ১ হাজার ৩০৯ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এটি আগের অর্থবছরের একই সময়ের ১ হাজার ২৩১ কোটি ৩১ লাখ ৭০ হাজার ডলারের তুলনায় ৬.৩৪ শতাংশ বেশি। ইপিবি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখারই প্রতিফলন এই প্রবৃদ্ধি। সরকার রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বাজার সম্প্রসারণ এবং পণ্যের মানোন্নয়নে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।
প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে এ খাতে ১ হাজার ৫৭ কোটি ৮৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার আয় হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬.১০ শতাংশ বেশি। সেপ্টেম্বরে এককভাবে পোশাক রপ্তানি ৮.৫৬ শতাংশ বেড়ে ৩০৮ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নিটওয়্যার ও ওভেন পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে যথাক্রমে ৬.৮৮ ও ৫.১১ শতাংশ। তৈরি পোশাকের মধ্যে জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে নিটওয়্যার রপ্তানি ৬.৮৮ শতাংশ বেড়ে ৫৯৬ কোটি ৩৭ লাখ ৬০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে। ওভেন পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫.১১ শতাংশ, হয়েছে ৪৬১ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। সেপ্টেম্বরে নিটওয়্যার ও ওভেন পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে যথাক্রমে ৮.৫৮ ও ৮.৫৪ শতাংশ।
অন্যান্য খাতের মধ্যে প্রথম প্রান্তিকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি ১৪.৭৪ শতাংশ এবং পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি ৩১.৫৫ শতাংশ বেড়েছে। লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যে ১৬.৫১ শতাংশ ও হোম টেক্সটাইল রপ্তানিতে ১১.৯৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ফার্মাসিউটিক্যালস বা ওষুধ শিল্পে এ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪০.৩৯ শতাংশ। তবে কৃষিপণ্য এবং হিমায়িত মাছের রপ্তানি কমেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি প্রথম প্রান্তিকে বেড়েছে ৩১.৫৫ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরে ২২.৭২ শতাংশ। লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের রপ্তানি প্রথম প্রান্তিকে ১৬.৫১ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরে ৩.৭৬ শতাংশ বেড়েছে। হোম টেক্সটাইল রপ্তানি বেড়েছে যথাক্রমে ১১.৯৪ ও ১৩.৫২ শতাংশ।
রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম প্রান্তিকে ১১.৩৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যেখানে মোট ২৫৯ কোটি ১৬ লাখ ৪০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। যুক্তরাজ্যে ১৩৭ কোটি ২ লাখ ডলার এবং জার্মানিতে ১২১ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। তবে সবচেয়ে নজরকাড়া সাফল্য এসেছে তুরস্কের বাজারে, যেখানে রপ্তানি ১০০.১১ শতাংশ বেড়ে ২১ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। আগের বছর একই সময়ে তুরস্কে রপ্তানি ছিল ১০ কোটি ৫২ লাখ ১০ হাজার ডলারের। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে রপ্তানি হয়েছিল ৯৯৭ কোটি ৪ লাখ ২০ হাজার ডলার। সেপ্টেম্বরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০.১৯ শতাংশ।