সৌদি আরব সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের সহায়তায় দেশটিতে সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে পাকিস্তান। লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আনতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটির এডেন বন্দরে পাকিস্তানের পাঠানো চারটি কার্গো বিমানে এসব অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছেছে। ২ অক্টোবর শুক্রবার আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। লোহিত সাগরের উপকূলজুড়ে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ব্যাপক অগ্রসরতা রুখতে সৌদি আরবের সমন্বিত সামরিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই ইসলামাবাদ এই পদক্ষেপে এগিয়ে এসেছে। কেবল সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ নয়, ইয়েমেনি বাহিনীকে সহায়তা করতে সৌদি সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মাঠে সক্রিয় রয়েছে পাকিস্তানের সামরিক উপদেষ্টাদের একটি দলও। এর মধ্যে সানা, সাদাহ এবং তাইজের সমন্বিত সামরিক ব্যবস্থার ওপর ডজনখানেক হামলা অন্তর্ভুক্ত ছিল। পাল্টা জবাবে হুতিরাও সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর চেষ্টা করেছে; যদিও তারা মদিনার বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার দায় অস্বীকার করেছে। গত আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘মক্কা চুক্তির’ কার্যকারিতার প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে এই পাকিস্তানি সমর্থনকে।
পাকিস্তানের একজন সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই চালানের মধ্যে অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া হালকা ধরনের কামান, ড্রোন এবং ড্রোন বিধ্বংসী অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেমও পাঠানো হয়েছে হুথিদের দমনে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাইজ শহরের দখল নেওয়ার জন্য বর্তমানে হুথি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। এডেন ও সরকারি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে হুতিরা তাইজ ও এডেনের সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু উড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে ইয়েমেনের চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় ৯৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে। হুথিদের অগ্রযাত্রা রুখতে সামরিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।