1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন

মূল্যস্ফীতিতে সাধারণ মানুষ চাপে আছে: অর্থমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬

মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে জিডিপির অনুপাতে কম কর আদায়, ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরানো, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোসহ বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতি যাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। শনিবার রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) আয়োজিত জাতীয় আন্তবিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতিবিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘ইকোনথন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) আয়োজিত জাতীয় আন্তবিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতিবিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘ইকোনথন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা ও প্রভাব

বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিতিশীলতার প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি মন্থর গতির এবং গত দশকের তুলনায় অর্থায়নের ব্যয় অনেক বেশি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সংরক্ষণবাদ ও শুল্কবাধা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব অর্থনৈতিক ক্ষতির হিসাবকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর ও রপ্তানিমুখী অর্থনীতিতে এই বৈশ্বিক ধাক্কার সরাসরি প্রভাব পড়ে, যা পণ্যের দাম, টাকার বিনিময় হার এবং রপ্তানি আদেশের ওপর প্রভাব ফেলছে।

নীতিনির্ধারণের চ্যালেঞ্জ ও সারপ্রাইজ এলিমেন্ট

নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার বিষয়টি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রতিটি দিনই যেন এক একটি ‘সারপ্রাইজ এলিমেন্টের দিন’। বাজেট একটি নির্দিষ্ট অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হলেও পরবর্তী সময়ে জ্বালানির দামের আকস্মিক পরিবর্তন, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা বিশ্ববাজারের অনিশ্চয়তা পরিস্থিতি বদলে দেয়। অসম্পূর্ণ তথ্য ও সীমিত সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই জনগণের কাছে জবাবদিহি রেখে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

অর্থনৈতিক সংস্কারের অগ্রাধিকার

দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া একটি বড় সংকট। জিডিপির অনুপাতে কর আদায়ের হার প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম এবং ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরানো এখন সময়ের দাবি। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, সময়সূচি যা-ই হোক, পরিবর্তিত বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থনীতিকে প্রস্তুত করতে হবে। বিশেষ করে রপ্তানি খাতকে কেবল বাণিজ্যসুবিধার ওপর নির্ভর না করে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা অর্জনের দিকে নজর দিতে হবে।

সামষ্টিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা

  • সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
  • করব্যবস্থাকে ন্যায্য, সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলার কাজ চলছে।
  • ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বেসরকারি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
  • শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় জনগণের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ফল নিশ্চিত করার অঙ্গীকার রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, তবে এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার অবিচল থাকবে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি পরামর্শ দেন যে, চাপের মুখে চিন্তাশীল থাকা, পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং যুক্তি দিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরার সক্ষমতা একজন নীতিনির্ধারকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun