সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। শনিবার এক টেলিভিশন ভাষণে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, তাদের এই অভিযান সফল হয়েছে এবং লক্ষ্যবস্তু এলাকায় আগুন ধরেছে। তার দাবি অনুযায়ী, ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও বিভিন্ন প্রদেশে সৌদি জোটের বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই পাল্টা অভিযান চালানো হয়েছে। ইয়াহিয়া সারির ভাষ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ওই অঞ্চলগুলোতে ৬০টি বিমান হামলা হয়েছে এবং সব মিলিয়ে হামলার সংখ্যা ১ হাজার ৪২০টিতে পৌঁছেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অবরোধ ও উত্তেজনার জবাব সমানভাবে দেওয়া হবে। তার দাবি, এসব হামলা নিয়ে মোট হামলার সংখ্যা ১ হাজার ৪২০-এ দাঁড়িয়েছে।
এদিকে হুথিদের এই দাবিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সৌদি গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে জানান, হুথিরা তাদের নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে এবং জনরোষ থেকে দৃষ্টি সরাতে এ ধরনের মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। রিয়াদে কোনো হামলার সত্যতা সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। আরামকোর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, রিয়াদে আরামকোর একটি স্থাপনার কাছে আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। ঘটনার সঙ্গে হুথিদের দাবির সরাসরি সম্পর্ক এখনো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আরামকোর কাছেও মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত সপ্তাহেও ইয়ানবুতে আরামকোর স্থাপনায় হামলার দাবি করেছিল হুথিরা। সে সময় সৌদি আরব জানিয়েছিল, তারা তায়েফ ও ইয়ানবুর দিকে ধেয়ে আসা ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে, যদিও আরামকোর ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য তারা দেয়নি। বর্তমানে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। হুথিরা নিয়মিত সৌদি ভূখণ্ডের জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে আক্রমণ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে সৌদি জোটও ইয়েমেনে তাদের সামরিক অভিযান জোরদার করেছে।
সৌদি সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, হুথিদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে দেশটির বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা জানায়, একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের পর তার ধ্বংসাবশেষ আসির প্রদেশে পড়লে এক এশীয় নাগরিক আহত হন; এছাড়া একটি মসজিদ ও কিছু যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে শুক্রবার নাজরান শহরের একটি স্কুল ভবনে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভবন ও কয়েকটি গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে ভবনটি ও আশপাশে থাকা কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উল্লেখ্য যে, ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এর আগে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং দেশটির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। দীর্ঘদিনের এই সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।