ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর মন্তরে ডাকা বিক্ষোভে অংশ নিতে যাওয়ার সময় জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করেছে গুরুগ্রাম পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দিল্লিতে প্রবেশ করার চেষ্টা করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর কেন্দ্রীয় বিহার এলাকায় অবস্থিত ধ্রুব রাঠির বাসভবনে পুলিশের একটি দল উপস্থিত হয়। সে সময় ঊর্ধ্বতন এক পুলিশ কর্মকর্তা তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, দিল্লিতে এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং নির্দেশ অমান্য করলে তাঁকে আটক করা হবে।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আহ্বানে আয়োজিত এই বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। তবুও কর্মসূচি সফল করতে অনড় রয়েছেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তিনি জানিয়েছেন, কঠোর বিধিনিষেধ সত্ত্বেও তাঁদের কর্মী ও সমর্থকরা যন্তর মন্তরে জমায়েত হওয়ার পরিকল্পনা থেকে পিছু হটবেন না। বিক্ষোভের ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হওয়ার আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ এ কর্মসূচি বাতিল করলেও, পাল্টা প্রশ্ন তুলে অভিজিৎ দিপকে বলেছেন, মেট্রো ও ট্রেন চলাচল বন্ধ এবং বিধিনিষেধ আরোপের ফলে জনগণের ভোগান্তি উল্টো আরও বাড়ছে। বিক্ষোভের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হতে পারে-এমন যুক্তিতে কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েছে রাজধানী দিল্লি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীতে ১৫ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য এবং ২৬ হাজারের মতো কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে জনপথ-কর্তব্য পথ মোড়ের চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে শুক্রবার রাত ১০টা থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রভাব পড়েছে ট্রেন চলাচলেও; হিন্দুস্তান টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা থাকা আড়াই শতাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এদিকে, রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা কয়েক শ মানুষকে পুলিশ ইতিমধ্যে আটক করেছে।